সঠিক উপায়ে গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানানোর রেসিপি জেনে নিন

আপনি কি বাড়িতে বসেই খুব সহজেই গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানাতে চাচ্ছেন? এই আর্টিকেলটি পড়লে খুব সহজেই আপনি বাড়িতে বসে গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানিয়ে নিতে পারবেন। টক দই এর উপকারিতা এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সম্পন্ন ধারণা পাবেন এবং বাজারে টক দইয়ের দাম কেমন তা জানতে পারবেন।

গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানানোর উপকরণ জানা থাকলে খুব সহজেই আপনি বাড়িতে বসে টক দই বানাতে পারবেন।নিচের আর্টিকেলটি পড়লে আপনি এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাবেন।

ভূমিকা

টক দই স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি জিনিস। এটি বাজার থেকে কেনা স্বাস্থ্যসম্মত নয় ও অনেক ব্যয়বহুল। তাই হাতের কাছে কিছু উপকরণ থাকলে আর সঠিক নিয়ম জানা থাকলে আপনি স্বাস্থ্যকর উপায়ে খুব কম সময়ে গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানিয়ে নিতে পারেন। আটিকেলটিতে সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়া আছে যেগুলো ফলো করলে আপনি লেবুর রস দিয়ে ১০ মিনিটে টক দই বানিয়ে নিতে পারবেন এর সাথে টক দইয়ের স্বাস্থ্যকর দিক ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানানোর রেসিপি

গরুর দুধ দিয়ে টক দই বানানোর জন্য ১ কেজি দুধের সাথে ২ টেবিল চামচ চিনি দিয়ে দুধ জ্বাল করে ঘন করে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করার জন্য কিছুক্ষণ মাটির পাত্রটিতে রেখে দিতে হবে। মাটির পাত্র ব্যবহার করলে বাড়তি পানি শুষে নেয়। দুধ কুসুম গরম হয়ে আসলে তার ভিতর ২ টেবিল চামচ টক দই বা বিজ দই দিয়ে দিতে হবে। ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ (৬-৭ ঘণ্টা ) গরম কোন জায়গায় রেখে দিন। অবশ্যই পাএটি কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

১০ মিনিটে টক দই বানানোর নিয়ম

১০ মিনিটে খুব সহজেই টক দই বানাতে প্রথমে ১ কাপ পানি নিয়ে গরম করে নিন। পানি কুসুম গরম করে নিয়ে তার ভিতর ৩ টেবিল চামচ গুঁড় দুধ দিন। ২ চা চামচ লেবুর রস বা ভিনেগার দিন। ভাল করে মিশিয়ে নিন।প্রথমে একটি প্যান বা পাত্র গরম করে নিন। এরপর এতে কিছু পানি দিন।পানি সহ পাত্রটি গরম হয়ে গেলে মেশানো সবগুলো উপকরণের বাটির মুখটি ফয়েল পেপার দিয়ে ভালোভাবে জড়িয়ে পাত্রটির মধ্যে রেখে ১০ মিনিট অল্প আঁচে জাল দিন ,তাহলেই দই জমাট বেঁধে যাবে। জমার পর ফ্রিজে রেখে দিলে আরও ভাল ভাবে জমাট বেঁধে যাবে। এভাবে খুব সহজেই ১০ মিনিটে টক দই বানিয়ে নিতে পারবেন।

লেবু দিয়ে টক দই রেসিপি

মাত্র এক পিস লেবু দিয়ে খুব সহজেই বাসায় টক দই বানিয়ে নিতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে প্রথমে একটি লেবু কেটে সেখান থেকে রস বের করে নিতে হবে। হাপ কাপ দুধ জাল দিয়ে নিবেন। দুধ কুসুম গরম হয়ে গেলে তার ভিতরে লেবুর রস দিয়ে দিন। দুধ এবং লেবুর রস ভালোভাবে মিক্স করে একরাত রেখে দিলে বীজ দই হয়ে যাবে। আপনাদের প্রয়োজন মত দুধ জাল দিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় সেখানে বিজ দই ঢেলে দিন। বীজ দই এবং দুধ ভালো করে মিশিয়ে নিন। মাটির বা কাচের পাত্রটিতে সেগুলো ঢেলে কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে সারারাত ঢেকে রাখুন। সকালে খুব সুন্দর ভাবে দই গুলো জমাট বেঁধে যাবে। এই পদ্ধতিতে খুব সহজেইল লেবু দিয়ে টক দই বানিয়ে নিতে পারবেন।

টক দই এর দাম

বাজারে বিভিন্ন কোয়ালিটির টক দই পাওয়া যায়। তরল টক দই গুলো সাধারণত প্লাস্টিকের কোটা বা প্যাকেটে পাওয়া যায় এবং ঘন টক দই মাটির তৈরি পাত্র বা বাটিতে করে বিক্রি হয়। বাজারে ১ কেজি তরল টক দই ১১০-১২০ টাকয়া বিক্রয় হয়ে থাকে। মাটির বাটিতে যে ঘন টক দই বিক্রয় হয় তার দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। বাজারে ৭০০ গ্রাম ঘন টক দই এর বাটি ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সেই হিসেবে এর ১ কেজি টক দই এর ২৮০-৩০০ টাকা হয়ে থাকে।

টক দই ছাড়া টক দই বানানোর রেসিপি

আমরা জানি টক দই বানানোর জন্য টক দই বীজ প্রয়োজন হয়। কিন্তু আজ আমরা শিখব টক দই বীজ ছাড়াই কিভাবে টক দই বানানো যায়। এর জন্য আপনাকে প্রথমে নিতে হবে খাঁটি গরুর দুধ বা গুঁড়া দুধে ব্যবহার করতে পারেন। দুধগুলো চুলায় জাল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। জাল দেওয়া দুধ নামিয়ে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করার জন্য রেখে দিন। দুধ কুসুম গরম হয়ে আসলে তার ভেতর ভিনেগার বা লেবুর রস মিশানো। প্রতি এক কাপ দুধের জন্য ৪-৫ টেবিল চামচ ভিনেগার বা লেবুর রস দিতে হবে। এরপর সেগুলো ভালোভাবে মিশাতে হবে। মেশানোর পর পাত্রটিতে ঢেলে মুখটি ফয়েল পেপার বা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এরপর পাত্রটি কোন গরম স্থানে (ওভেন) এ রেখে দিতে হবে। 10 থেকে 12 ঘন্টা পরে দেখবেন টক দই তৈরি হয়ে গেছে। আরো ভালোভাবে জমানোর জন্য কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে যেতে পারেন। এভাবে খুব সহজেই টক দই বীজ ছাড়া টক দই বানিয়ে নিতে পারবেন।

টক দই এর উপকারিতা

টক দই খুবই পুষ্টিকর এবং মানব দেহের জন্য উপকারী একটি খাবার। টক দই নিয়মিত খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং এসিডিটি দূর করে। টক দই নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। টক দই এ প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি রয়েছে যা শরীরের হাড় এবং দাঁত মজবুত করে। টক দই নিয়মিত খেলে ক্ষুধা কমায় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখে। যা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে খুব সাহায্য করে। তাছাড়া টক দই নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টক দই চুল পড়া কমায় এবং ত্বকে পুষ্টি যোগায়।

টক দই এর ক্ষতিকর দিক

টক দই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি খাবার হলেও অতিরিক্ত বা ভুল নিয়মে খেলে শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। টক দই খাওয়ার সঠিক নিয়ম না জেনে অতিরিক্ত টক দই খেলে বদহজম হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত ফ্রিজ রেখে টক দই খেয়ে থাকি। শীতকালে বা রাতে এই টক দই খেলে ঠাণ্ডা-কাশি বৃদ্ধি পায়। যা থেকে হাঁপানি বা সাইনাসের সমস্যা বাড়তে পারে। চিনি মেশানো টক দই খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে ফেলে।

মন্তব্য

টক দই নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। কিন্তু অবশ্যই তা আমাদের পরিমাণ মতো খেতে হবে। টক দই নিয়মিত খেলে হতম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং এসিডিটি দূর হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তারপরও আমাদের সতর্কতার সহিত টক দই খাওয়া উচিত নয়তো শরীরের জন্য এটি ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে ।এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানাতে পারেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url