খাঁচায় কোয়েল পাখি পালন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

এই আর্টিকেলটি খাচায় কয়েল পাখি পালন সম্পর্কে। কম পুঁজি ও অল্প জায়গায় অধিক লাভবান হওয়ার জন্য খাচায় কোয়েল পাখি পালনের বিকল্প নেই। বর্তমানে অনেকে লাভজনকভাবে খাচায় কোয়েল পাখি পালন করছে। সঠিক গাইড লাইন থাকলে খাচায় কোয়েল পালন আরো সহজ হয়ে যায়।
খাঁচায় কয়েল পাখি পালন, খাবার, চিকিৎসা, পুরুষ মহিলা চিনার উপায়, ডিম না দেওয়ার কারন, ঔষধের তালিকা,ডিমের উপকারিতা, ডিমের দাম ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি সম্পুন পড়ুন।

ভূমিকা

খাচায় কোয়েল পাখি পালনের ক্ষেত্রে হাস মুরগির মত আলাদা কোন ঘরের প্রয়োজন নেই । যার ফলে অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায়। যদিও খাচায় কোয়েল পাখি পালন তুলনামুলক কম ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সঠিক ব্যাবস্থাপনা ও চিকিৎসার অভাবে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে আলো বাতাস ও শুষ্ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং খাবার, চিকিৎসা, ঔষধ ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। চলুন এ সম্পর্কে আমরা আরো বিস্তারিত জানি।

খাঁচায় কোয়েল পাখি পালন পদ্ধতি

খোলা অবস্থায় কোয়েল পাখি পালনের চেয়ে খাচায় কোয়েল পাখি পালন অধিক স্বাস্থ্যকর। খাচায় কোয়েল পাখি পালনের ফলে পাখির বিষ্ঠা সরাসরি নিচে পড়ে যায় যা রোগের ঝুকি কমায়। খাচায় কোয়েল পাখি পালনের বিস্তারিত পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলোঃ

খাচার সঠিক মাপ

প্রতি ৫-৮ টি পূর্ণবয়স্ক কোয়েল পাখি এক বর্গফুট খাচায় পালন করা যায়। তবে ১ টি পাখির জন্য ১৪৫ বর্গ সেন্টিমিটার জায়গা রাখা সবচেয়ে উত্তম। খাচার উচ্চতা ২৫ সেমির বেশি করা উচিত না, কারন এরা আতঙ্কিত হলে লাফ দেয় যার ফলে এদের ঘাড়ে অথবা মাথায় লেগে মৃত্যু হতে পারে।

খাঁচা তৈরির উপকরন ও ডিজাইন

বাঁশ, কাঠ ও জিআই (GI) তারের জালের মাধ্যমে খাঁচা তৈরি করা যায়। তবে লোহার জালের চেয়ে ফাইবার নেট অথবা প্লাস্টিকের নেট ব্যাবহার করা উত্তম। এক্ষেত্রে জং ধরার ভয় থাকে না। খাঁচার মেঝের জালগুলোর ফাঁক অবশ্যয় ছোট হতে হবে যাতে পাখিগুলোর পা আটকে না যায়। মেঝের সামনের দিকে ৫-৭ ডিগ্রি ঢালু রাখতে হবে যাতে ডিমগুলো এক জায়গায় জমা হয় এবং তা সহজেই সংগ্রহ করা যায়। বিষ্ঠা পরিষ্কারের জন্য প্রতিটি খাঁচার জন্যে একটি করে ট্রে (poop tray) রাখতে হবে।

পানি ও খাবারের ব্যবস্থাপনা

কোয়েল পাখিকে দিনে অন্তত ৩ বার খাবার দেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে খাবার ও পানির পাত্রটি খাঁচার বাহিরে ঝুলিয়ে রাখা সুবিধাজনক। পানি যাতে পরিষ্কার থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং গরমের দিনে পানিতে ভিটামিন সি অথবা ইলেক্ট্রোলাইট মেশানো যেতে পারে ।

আলো বাতাস ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা

একটি প্রাপ্ত বয়স্ক কোয়েলের ডিম পাড়ার জন্য দৈনিক ১৪-১৬ ঘণ্টা আলোর প্রয়োজন। আলো কম থাকলে বিশেষ করে শীতকালে (বাল্প) এর মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এমোনিয়া গ্যাস জমে যাতে কোয়েলের শ্বাসকষ্ট না হয় সেদিকে খিয়াল রেখে খাঁচাটি পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখতে হবে।

কোয়েল পাখি পালন ও চিকিৎসা

কোয়েল পাখি পালন পদ্ধতি 

কোয়েল পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মুরগির তুলনায় অনেক বেশি এবং বাংলাদেশের আবহাওয়ায় পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। খাঁচায় কোয়েল পাখি পালনের ক্ষেত্রে একটি সাধারন মুরগি পালন করতে যেই পরিমাণ জায়গা লাগে ওই জায়গার মধ্যে ১০-১২ টি কোয়েল রাখা সম্ভব। খাঁচায় কোয়েল পাখি পালনের জন্য খাঁচা সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে এবং সুষম পোলট্রি ফিড নিশ্চিত করতে হবে।

কোয়েল পাখির রোগ ও চিকিৎসা

দ্রুত রোগ চিনে বেবস্থা নিতে না পারলে কোয়েল পাখির খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। এজন্য কোয়েল পাখির সাধারনত যেই রোগ গুলো হয়, এদের লক্ষন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হলোঃ
  • ককসিডিওসিস (coccidiosis)
রক্তমিশ্রিত পায়খানা ও দুর্বলতা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। প্রতি ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম আমপ্রলিয়াম মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়ালে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
  • রানিখেত (Ranikhet)
এই রোগের লক্ষন হল ঘাড় ঘুরে যাওয়া ও দ্রুত মৃত্যু বরন করা। এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে নিয়মিত BCRDV/NDV ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে।
  • সালমোনেলসিস(Salmonellosis)
সাদা অথবা পাতলা পায়খানা হওয়া এই রোগের লক্ষন। এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে ১ গ্রাম এনরোফ্লক্সাসিন ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ঠাণ্ডা বা CRD
হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া এই রোগের লক্ষন। টাইলসিন জাতীয় ঔষধ ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট এর মাধ্যমে রোগটি প্রতিকার করা সম্ভব।

কোয়েল পাখির খাবার

বয়স অনুযায়ী কোয়েল পাখির খাবার গ্রহনের তারতম্য হয়ে থাকে। সাধারণত একটি প্রাপ্ত বয়স্ক কোয়েল পাখি দিনে ২০-২৫ গ্রাম খাবার গ্রহন করে থাকে। কোয়েল পাখির দ্রুত বৃদ্ধি ও ডিম পাওয়ার জন্য সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলঃ

১ দিন থেকে ৩ সপ্তাহের বাচ্চার জন্য “ বয়লার স্টাট্রার” ফিড মিহি করে খাওয়ানো যায়। কারন এই সময় বাচ্চার শারীরিক গঠনের জন্য উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন হয়। বাড়ন্ত পাখির জন্য “গ্রয়ার ফিড” দেওয়া হয়। কারন এই সময় প্রোটিন কিছুটা কম থাকলেও চলে। কিন্তু ৬ সপ্তাহ থেকে ডিম পাড়া পর্যন্ত সময় খাবারের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারন ডিম পাড়ার ফলে এই সময় ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। তাই ডিম পাড়া কোয়েলকে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। এদের জন্য বাজারে পাওয়া “লেয়ার-১” ফিড সব চেয়ে আদর্শ।

কোয়েল পাখির জন্য বাড়িতে খাবার তৈরি করতে গেলে যেসব বিষয় লক্ষ রাখতে হবে তা হলো প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, শক্তির উৎস, আমিষ ও লবণের সুষম মাত্রা নিশ্চিত করা। এজন্যে আমরা ভুট্টা ভাঙ্গা (৪৫%), সয়াবিন মিল (৩০%), চাল বা গমের কুড়া (১০%), শুঁটকি মাছের কুড়া (১০%), চুনা পাথর (৪.৫%), লবণ (০.৫%) ব্যাবহার করতে পারি।

খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে পাত্র এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন পাখি গুলো সহজেই খাবার খেতে পারে এবং ছিটিয়ে খাবার নষ্ট না করতে পারে। লাভজনক ভাবে কোয়েল পালন করতে গেলে সবসময় যেন বিশুদ্ধ পানি থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কারন এরা পানি কম খেলে খাবার ও কম খায়। ফলে ডিম উৎপাদনও কমে যায়। মাঝে মধ্যে কচি ঘাস খেতে দিলে এদের ভিটামিন এর চাহিদা পূরণ হয়।

কোয়েল পাখি পুরুষ মহিলা চেনার উপায়

জাপানি কোয়েল অর্থাৎ আমাদের দেশে যেগুলো বেশি পালন হয় সেগুলো সাধারনত ৩-৪ সপ্তাহ বয়সে আলাদা করা যায়। নিচে এগুলো চিনার সহজ উপায় দেওয়া হলোঃ

  • কোয়েল পাখি চিনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বুকের পালক দেখা। পুরুষ কোয়েলের ক্ষেত্রে বুকের পালক সাধারণত একরঙা হয় এবং গাঢ় বাদামি বা লালচে রঙের হয়। এদের বুকের পালকে কোন ফাটা বা দাগ থাকে না।অপরদিকে মহিলা কোয়েলের ক্ষেত্রে বুকের পালক হালকা ধুসর বা ঘিয়ে রঙের হয় এবং কালো অথবা গাঢ় বাদামি রঙের ছোট ছোট ফাটা বা ছিটা দাগ থাকে।
  • সাধারণত পুরুষ কোয়েল পাখিরা বেশ জোরে ও তীক্ষ্ণ সরে ডাক দেয়। বিশেষ করে প্রজনন ঋতুতে এরা বারবার ডাকতে থাকে।মহিলা কোয়েল পাখিরা পুরুষ কোয়েলের মত জোরে ডাকাডাকি করে না, এরা মাঝে মধ্যে মৃদু কিচিরমিচির শব্দ করে।
  • ১০০% নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৫-৬ সপ্তাহ বয়সে পাখির লেজের নিচে জনন অন্দ্রিয়ের কাছে চাপ দিয়ে দেখতে হবে, যদি সাদা ফেনার মত বের হয় তবে সেটি পুরুষ। আর যদি কোন সাদা ফেনা বের না হয় তবে সেটি মহিলা।
  • পুরুষ কোয়েল গুলো মহিলা কয়েলের তুলনায় আকারে কিছুটা ছোট ও ওজনেও হালকা হয়। অপরদিকে মহিলা পাখি গুলো আকারে কিছুটা বড় হয়। কারণ ডিম দেওয়ার জন্য এদের প্রসস্থ পেছনের প্রয়োজন হয়।

কোয়েল পাখি ডিম না দেয়ার কারণ

কোয়েল পাখি ডিম না দেয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে এর মধ্যে বাসস্থান, পুষ্টি ও পরিবেশগত সমসা অন্যতম। নিচে এই সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ

১।কোয়েল পাখি ডিম না দেওয়ার প্রধান যে কারণ সেটি হলো আলোর স্বল্পতা। কোয়েল পাখির ডিম পাড়ার জন্য দিনে কমপক্ষে ১৪-১৬ ঘণ্টা আলোর প্রয়োজন। এই কারনে শীতকালে এরা ডিম পাড়া বন্ধ করে দেয়। এর বিকল্প হিসেবে সন্ধ্যা ও ভোরের দিকে বাল্প ব্যাবহার করে আলোর সময় বাড়াতে হবে।

২।পুষ্টির অভাব কোয়েল পাখির ডিম না দেওয়ার অন্যতম কারণ। ২০-২২% এর নিচে প্রোটিনের মাত্রা নেমে গেলে ডিম উৎপাদন কমে যায়। ক্যালসিয়ামের অভাবে ডিমের খোসা পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ডিম পাড়া বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ( vitamin D3,E ও A) সাপ্লিমেন্ট যোগ করতে হবে।

৩।যেকোনো ছোট পরিবর্তন কোয়েল পাখির ডিম পাড়ার ব্যাঘাত ঘটায়। কারন এরা অনেক ভীতু পাখি।কুকুর বিড়ালের উপদ্রপ, বিকট শব্দ অথবা খাঁচা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিলে এরা ডিম পাড়া বন্ধ করে দেয়। তাই খাঁচাটি শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে রাখতে হবে।

.৪।যদিও কোয়েল শীত প্রিয় পাখি, তবে ১০ ডিগ্রি সে. নিচে অথবা ৩৫ ডিগ্রি সে. এর উপরে এদের ডিম উৎপাদন কমে যায়। তাই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজনে গরমে পানির সাথে ইলেক্ট্রোলাইটর দিতে হবে।

৫।কোয়েল পাখি সাধারনত ১.৫ বছর পর্যন্ত ভালো ডিম দেয় এবং এর পর ডিম দেওয়া কমে যায়। আবার এদের প্রতি বছর অন্তত একবার পালক ঝরে এবং নতুন পালক তৈরিতে শক্তি ব্যায় হয় যার ফলে ডিম দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

অনেক ক্ষেত্রে পাখির রোগ বালাই এর কারনে ডিম উৎপাদন কমে যায়। তাই যদি কোয়েল ঝিমুতে দেখেন অথবা পাতলা পায়খানার মত লক্ষন দেখেন তাহলে অবশ্যয় চিকিৎসকের পরামশ নিতে হবে।

কোয়েল পাখির ঔষধ তালিকা

অসুস্থ কোয়েল পাখিকে যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাবহারের পূর্বে অবশ্যয় স্থানীয় প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে খামার করার ক্ষেত্রে যেসব ওষধ হাতের নাগালে রাখা উচিত সেগুলোর কাজ অনুযায়ী নিচে দেওয়া হলোঃ

সাধারণ রোগের জন্য

রক্ত আমাশয়ঃ পাখির বিষ্ঠাই রক্ত দেখা দিলে বুঝতে হবে রক্ত আমাশয় হয়েছে।
ওষধঃ Amprolium অথবা ESB-3 দিতে হবে।

ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্টঃ এক্ষেত্রে পাখির নাক দিয়ে পানি পড়ে বা ঘড়ঘড় শব্দ করে।
ওষধঃ Tylosin ( যেমনঃ টাইলভেট) অথবা Doxycycline ( যেমনঃ ডক্সিন) ।

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানাঃ Enrofloxacin ( যেমনঃ এনরোফ্লক্স সলিউশন) অথবা Ciprofloxacinl

এছাড়াও
  • কোয়েল পাখির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম এর বিকল্প নেই। এজন্য আমরা Cal-p বা যেকোনো লিকুইড ক্যালসিয়াম এবং Rena-WS বা Hipra-Vitil ব্যাবহার করতে পারি।
  • হজম শক্তি ব্রদ্ধি ও লিভারের জন্য আমরা লিভারটনিক হিসেবে Li-Tone বা Livervit ব্যাবহার করতে পারি।
  • সাধারণত কোয়েল পাখির বয়স ৪৫-৬০ দিন হলে কৃমির কোর্স করানো উচিত। এক্ষেত্রে Levamisole ( যেমনঃ লেভানিড ) অথবা Piperazine ব্যাবহার করা যেতে পারে।
  • কোয়েল পাখির শরীরে কোথাও ক্ষত হলে Povidone lodine (যেমনঃ ভায়ডিন বা সেভ্লন) ব্যাবহার করা যায়।

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

কোয়েল পাখির ডিম শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জন্যই স্বাস্থ্যকর ও অত্যন্ত উপকারি। আকারে ছোট হলেও কোয়েল পাখির ডিম পুষ্টিগুণে ভরপুর। নিচে কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা গুলো দেওয়া হলোঃ

  • কোয়েল পাখির ডিমে প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ এবং সি থাকায় এটি রোগ প্রতিরধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং সংক্রামণ থেকে রক্ষা করে।
  • কোয়েল পাখির ডিমে ভিটামিন বি এবং কোলিন থাকে যা শিশুদের মানসিক ও বৃদ্ধিবিত্তিক বিকাশে সাহায্য করে।এই ডিমে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকায় রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে সয়াহতা করে এবং রক্ত শূন্যতা দূর করে।
  • কোয়েল পাখির ডিমে ভিটামিন এ থাকায় দৃষ্ট শক্তি ভালো রাখে ও ছানি পড়া রোধ করে।
  • কোয়েলের ডিমে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুকি কমায়। এছাড়াও ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কোয়েল পাখির দাম ২০২৬

কোয়েল পাখির ধরন ( জাত ) , বয়স এবং বাজারের চাহিদার উপর নির্ভর করে দামের তারতম্য হয়। তবে বর্তমান বাজার অনুযায়ী আনুমানিক একটি মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ

বয়স অনুযায়ী প্রতি পিসের মূল্য
  • ১ দিনের বাচ্চার মূল্য সাধারণত ১২-১৫ টাকা।
  • ১৫-২০ দিনের বাচ্চার মূল্য ৩০-৪০ টাকা।
  • পুরনবয়স্ক বা ডিম পাড়া পাখির মূল্য ৬০-৮০ টাকা।
  • মাংসের জন্য বড় কোয়েল গুলো সাধারণত ৫০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
  • অনেকে সখ করে কিং কোয়েল পালন করে। এদের দাম ও কিছুটা বেশি হয়। সাধারণত একটি রানিং কিং কোয়েলের জোড়া ৫০০-১০০০ বা তার বেশিও হতে পারে।
ডিমের দাম
  • সাধারণত কোয়েল পাখির প্রতি হালি ডিমের দাম ১০-১২ টাকা।
  • পাইকারি বাজারে ১০০ টি ডিমের দাম ২৮০-৩২০ টাকা হতে পারে।

মন্তব্য

এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ রিসার্চ এর উপর ভিত্তি করে লিখা। এখানে থাকা সকল তথ্য বিজ্ঞানসম্মত। রিসার্চ এর কারনে কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যের তারতম্য হতে পারে। তবে যতটা সম্ভব নির্ভুল লিখার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url