হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত নিন

এই আর্টিকেলে হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে লিখা হয়েছে। আমরা অনেকেই হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখি না। যার ফলে বড় বিপদের মুখে পড়তে হয়। হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানলে বড় ঝুকির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।
এই আর্টিকেলে হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষন, কারন, প্রাথমিক চিকিৎসা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। সম্পূর্ণ তথ্য জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ভুমিকা

বর্তমানে বাংলাদেশে হার্ট এর সমস্যা একটি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়ে গেছে। অনেকের হার্টের সমস্যার লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তারা জানেও না তাদের হার্ট ভালো আছে, না সমস্যা হয়েছে। হার্টের যেমন সমস্যা আছে তেমন তার প্রতিকার ও আছে। তবে তার জন্য আমাদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক তথ্য গুলো জানতে হবে। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখা হলো।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকের মাঝে চাপ অনুভব হওয়া, মাথা ঘোরা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি হার্টের সমস্যার লক্ষণ গুলোর অন্যতম। তবে বাক্তি ভেদে হৃদ রোগের লক্ষণ গুলো ভিন্ন হতে পারে। হার্ট সুস্থ রাখতে সঠিক সময় হার্টের সমস্যার লক্ষণ গুলো শনাক্ত করতে হবে। নিচে হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

হার্টের সমস্যার লক্ষন

  • হার্টের সমস্যার প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে ব্যথা অনুভব করা। অনেক সময় বুকের বাম দিকে ব্যথা হতে পারে।
  • হার্টের সমস্যার কারনে চোয়াল, ঘাড়, পিঠ অথবা বাম হাতের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।
  • এই সময় মানুষ অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত বা দুর্বল হয়ে পড়ে।  
  • হার্টের সমস্যা হলে  বমি বমি ভাব ও বদ হজমের মতো অস্বস্থি হয়।
  • এই সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং অল্প পরিশ্রমেও মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে অনিয়মিত হৃদ স্পন্দন অনুভব হয় এবং হার্টবিট স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

হার্টের সমস্যার প্রতিকার

  • ধূমপান হার্টের সমস্যার প্রধান কারণ। তাই অতি দ্রুত এই বাজে অভ্যাসটি ত্যাগ করতে হবে।
  • অতিরিক্ত লবণ ও ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং তার পরিবর্তে ফল, সবজি ও মাছ খাবারের তালিকায় রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে হার্ট ভালো থাকবে।
  • মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমানে অর্থাৎ ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে এবং শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ

কোন কোন ক্ষেত্রে হার্ট এটাক হঠাৎ করে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বেই এর লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়। সাধারণত কয়েকদিন এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেও এর পূর্ব লক্ষণ গুলো প্রকাশ পেয়ে থাকে। হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ গুলো জানলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। নিচে লক্ষণ গুলো দেওয়া হলো।
  • এই সময় বুকের বাম দিকে অথবা মাঝখানে মাঝেমধ্যে চাপ বা অস্বস্থি অনুভব হয়। বিশ্রাম নিলে এটি কিছুটা কমলেও তা পুনরায় ফিরে আসে এবং ব্যথা টি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়।
  • এই সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং অল্প পরিশ্রমেও দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অনুভুতি হয়।
  • বমি বমি ভাব ও বদহজমের মত অস্বস্থি হতে পারে।
  • অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা বুক থেকে উপরের দিকে এবং হাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
  • এই সময় মাথা ঘুরে শরীর খারাপ লাগে এবং ভারসম্যহীনতা অনুভব হয়।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও কারণ

মানুষের শারীরিক জতিলতা এবং দীর্ঘদিন যাবৎ অনয়মিত জীবনযাপন হার্টের সমস্যার প্রধান কারন। এছাড়াও আরো কিছু কারণে হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে। নিচে হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও কারণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

হার্টের সমস্যার কারন

  • রক্তে ক্ষতিকর কোলোস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপের কারণে হার্টের সমস্যা হয়।
  • হৃদপিণ্ডের ধমনিতে চর্বি জমার কারণে ধমনি গুলো সরু হয়ে যায় এবং রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের হয়।
  • ধূমপান ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন হার্টের সমস্যার অন্যতম কারণ।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন হার্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে ফলে হার্টের সমস্যা হয়।
  • বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ ও বংশগত কারণেও হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে।

মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন গুলো কি কি

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ গুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ ও মেয়েদের একই। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে কিছু সুক্ষ পরিবর্তন রয়েছে। মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায় তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে কোন প্রকার শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা হার্ট এটাকের প্রধান লক্ষণ।
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং বুকে ব্যথা ছাড়াই হাপিয়ে উঠা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
  • শুধু ঘাড়, চোয়াল ও বাম হাত নয় মেয়েদের ক্ষেত্রে দুই কাধের মাঝে এবং পেটে ব্যথা ও অস্বস্থি অনুভব হতে পারে।
  • মাথা ঝিমঝিম ও হঠাৎ করে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আবার ঘেমে যেতে পারে।
  • অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার সাথে অকারণে ভয় পাওয়া মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের কারণ।
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ঘুমের সমস্যা হওয়া কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়াকেও ধরা হয়।

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ প্রকাশ পেলে না ঘাবড়িয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় যত দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন রোগীকে বাঁচানোর সম্ভাবনা ততো বেড়ে যায়। চলুন হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করি।
  • হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ প্রকাশ পেলে রোগীকে আধাশোয়া করে শরীর শিথিল রাখতে বলুন যাতে হার্টের উপর চাপ কম পড়ে।
  • যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল এ জরুরি সেবার জন্য যোগাযোগ করুন। কিন্তু কোন মতেই রোগীকে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যেতে দিবেন না।
  • রোগীকে মানসিকভাবে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। ভয় পেলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
  • রোগীকে বেশি গরম বা বেশি ঠাণ্ডা লাগাতে দিবেন না। 
  • রোগীর পালস ও শ্বাস-প্রশ্বাস এর দিকে লক্ষ রাখতে হবে এবং রোগীর শ্বাস বন্ধ কিংবা রোগী অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে কিনা সেদিকে দেখতে হবে। যদি এই রকম সমস্যা ঘটে তবে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে সিপিআর ( CPR ) দিতে হবে।

হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা

হার্ট এটাকের কারণে হার্টের রক্ত প্রবাহ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে এই সময় রক্ত প্রবাহ সচল বা স্বাভাবিক করার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়। যদিও হার্ট এটাকের চিকিৎসা হাসপাতাল ভিত্তিক নিবিড় পযবেক্ষনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য যেসব ধাপ অবলম্বন করা হয় তা নিচে দেওয়া হলো।
  • হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে এবং রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখতে যেসব ওষধ প্রয়োজন সেগুলো দিয়ে থাকেন।
  • ব্লকের ধরন অনুযায়ী ডক্টর যদি সার্জারির মাধ্যমে হার্টের রক্ত চলাচলের পথ সচল করতে চাই তবে যত দ্রুত সম্ভব সার্জারির ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ইসিজি ( ECG ), ইকোকাডিওগ্রাম বা রক্ত পরিক্ষার মাধ্যমে হার্টের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়

হার্ট এটাক প্রতিরোধের জন্য নিয়ম মাপিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নেই। হার্ট অ্যাটাকে প্রতিরোধের জন্য নিচের অভ্যাস গুলো গড়ে তোলা জরুরি।
  •  কাঁচা লবন, চিনি ও চিনি দিয়ে বানানো খাবার খুব সামান্য পরিসরে খাওয়া বা একদম ই না খাওয়া। কারণ লবণ রক্তচাপ বাড়ায় আর চিনি ওজন বাড়ায়, যা হার্টের জন্য ক্ষতিকর।
  • লাল মাংস, ভাজাপোড়া এবং বিভিন্ন চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলো ধমনিতে ব্লকেজ তৈরি করে।
  • বিভিন্ন আঁশযুক্ত শাক-সবজি, রঙিন ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ এবং বাদাম প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে। এই খাবার গুলো হার্ট ভালো রাখে।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাটা, সাঁতার কাটা অথবা সিঁড়ি ব্যবহার করে ব্যায়াম করা উচিত। এতে করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং হার্টের পেশি শক্তিশালী হয়।
  • বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল ও ধূমপান সম্পূর্ণ রুপে পরিহার করতে হবে। কারণ এগুলো হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে হবে। কারণ এগুলো রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই ধ্যান, ইয়োগা অথবা শখের কাজ করার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো যেতে পারে।
  • যদি ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে অবশ্যয় নিয়মিত ওষধ সেবনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। LDL বা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল আছে কিনা পরিক্ষা করে তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরিবিচ্ছিন্ন ঘুম। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ঘুমের অভাব হলে হার্ট এটাকের সম্ভবনা বেড়ে যায়।

মন্তব্য

এই আর্টিকেলে থাকা সকল তথ্যই গবেষণার উপর ভিত্তি করে লিখা হয়েছে। এখানে থাকা তথ্যগুলো যতটা সম্ভব নির্ভুল লিখার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও রিসার্চ এর কারনে কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যের তারতম্য হতে পারে। তবে আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url