স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সব বিস্তারিত পড়ুন
স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কি? ওরস্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা এবং স্যালাইন খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। নিচের আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়লে স্যালাইন খাওয়ার কি কি উপকারিতা এবং স্যালাইন খাওয়ার নিয়ম এবং স্যালাইন খেলে গ্যাস বাড়ে কিনা তা জানতে পারবেন।
অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়। ফলে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এই পানি শূন্যতা দূর করতে ওরস্যালাইন খাবেন নাকি টেস্টি স্যালাইন? নিচে বিস্তারিত জানুন।
ভুমিকা
সোডিয়াম ক্লোরাইড,পটাশিয়াম ক্লোরাইড,গ্লুকোজ এবং জলের একটি মিশ্রণে তৈরি স্যালাইন। শরীরের পানি শূন্যতা দূর করতে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অবশ্যই নিয়ম মেনে স্যালাইন খেতে হবে। অতিরিক্ত এবং ভুল সময়ে স্যালাইন খাওয়ার ক্ষতিকারক দিক ও রয়েছে। ওরস্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা এবং টেস্টি স্যালাইন এর উপকারিতা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবংএর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জেনে নিন।
স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
ডায়রিয়া জনিত কারণে শরীর থেকে যে অতিরিক্ত লবণ ও পানি বের হয়ে যায় তার অভাব পূরণ করে স্যালাইন। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচায় এই স্যালাইন। প্রাণ রক্ষাকারী এই স্যালাইন খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে ভুল নিয়মে বা অতিরিক্ত খেলেও এর অপকারিতা রয়েছে। নিচের স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।
স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা
১। অতিরিক্ত গরম,ডায়রিয়া বা বমির মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। এ সময় স্যালাইন খেলে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ভারসাম্য দ্রুত ফিরিয়ে আনে।
২। শরীরের শক্তি কমে গেলে বা ক্লান্তি লাগলে স্যালাইনে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং ক্লান্তি দূর করে দেয়।
৩। স্যালাইনে থাকা সোডিয়াম ক্লোরাইড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৪। ডিহাইড্রেশন জনিত কারণে মাথা ব্যথা দূর করতে স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৫। প্রখর গরম বা রোদে কাজ করলে শরীরের তাপমাত্রা অনেক পরিমান বেড়ে গিয়ে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এতে হিটস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্যালাইন এই পানি শুন্যতা দূর করে হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করে।
৬। ইলেক্ট্রোলাইটের অভাবে পেশিতে খিচুনি হয়ে থাকে। স্যালাইন সেই ইলেকট্রোলাইটের অভাব পূরণ করে পেশির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
স্যালাইন খাওয়ার অপকারিতা
১। স্যালাইনে থাকে সোডিয়াম বা লবণ। তাই অতিরিক্ত স্যালাইন খেলে শরীরের লবণের পরিমাণ বেড়ে যায় যা উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে।
২। অতিরিক্ত স্যালাইন সেবনে স্যালাইনে থাকা সোডিয়াম এর কারণে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে এবং হাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩। কোন কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত স্যালাইন খেলে শরীলের বিভিন্ন অংশে পানি জমা হয় বা শরীর ফুলে যায়।
৪। অতিরিক্ত স্যালাইন খেলে গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
৫। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে দীর্ঘদিন স্যালাইন খেলে পেশির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
৬। স্যালাইনে থাকা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি কিডনির উপর প্রভাব ফেলে। যা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
খাবার স্যালাইন খাওয়ার নিয়ম
ডায়রিয়া,কলেরা,বমি,পাতলা পায়খানা কিংবা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরের যে পানিশূন্যতা হয় তার ঘাটতি মিটানোর জন্য খাবার স্যালাইন খেয়ে থাকি। খাবার স্যালাইন খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। ভুল নিয়মে খাবার স্যালাইন খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। নিচে খাবার স্যালাইন খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নি।
স্যালাইন তৈরির নিয়ম
একটি কাপ বা বোতলে আধা লিটার (৫০০ মিলি) বিশুদ্ধ পানি নিতে হবে। ফোটানো পানি ও ঠান্ডা করে ব্যবহার করতে পারেন। ১ প্যাকেট খাবার স্যালাইন আধা লিটার (৫০০ মিলি) পানির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। অনেকেই সাধের জন্য পানি কম দিয়ে থাকে এতে শরীরে লবণের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই এক প্যাকেট খাবার স্যালাইন এর জন্য আধা লিটার (৫০০ মিলি) পানি ব্যবহার করেই পান করতে হবে।
স্যালাইন খাওয়ার পরিমান
ডায়রিয়া,কলেরা,পাতলা পায়খানা বা অন্যান্য যেসব কারণে শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বের হবে তার চেয়ে বেশি খামার স্যালাইন খেতে হবে। শরীর থেকে বের হওয়া পানির তুলনায় কম খাবার স্যালাইন খেলে শরীরের পানি শূন্যতা দূর হবে না।
স্যালাইন কতক্ষণ ভালো থাকে
একবারে একটি সম্পূর্ণ স্যালাইন খাওয়া ঠিক নয়। ৫-১০ মিনিট পর পর একটু একটু করে খাবেন। স্যালাইন তৈরি করার ১২ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। কারণ ১২ ঘন্টা পর সেই স্যালাইনে জীবাণুর সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই স্যালাইন তৈরির ১২ঘন্টার আগেই স্যালাইনটি সম্পন্ন শেষ করতে হবে।
সতর্কতা
স্যালাইনটি অবশ্যই বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। স্যালাইন তৈরি করার সময় দুধ বা গরম পানিতে মেশানো যাবে না।
টেস্টি স্যালাইন এর উপকারিতা
সাধারণত স্যালাইনের স্বাদ হয়ে থাকে নোনতা। টেস্টি স্যালাইন কমলা,লেবু বা বিভিন্ন ফ্লেভারের পাওয়া যায়। তাই এটি খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। শুধু খেতে সুস্বাদু নয় টেস্টি স্যালাইন এর উপকারিতা রয়েছে অনেক। নিচে টেস্টি স্যালাইনের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।
১। পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে অনেক পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। টেস্টি স্যালাইন শরীরের এই পানি শূন্যতা এবং খনিজ লবণের অভাব পূরণ করে।
২। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়। টেস্টি স্যালাইন শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে নষ্ট হওয়া ইলেকট্রোলাইট পূরণ করে থাকে।
৩। গরমে কাজ করলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি ও লবণ বের হয়ে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। টেস্টি স্যালাইনে থাকা গ্লুকোজ শরীরকে তাৎক্ষণিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করে দেয়।
৪। অন্যান্য স্যালাইনের তুলনায় টেস্টি স্যালাইনের দাম অনেকটাই কম থাকে এবং প্রায় সকল ঔষধের দোকানেই পাওয়া যায়। এটি কিন্তু হয়রানি হতে হয় না।
৫। স্যালাইন সাধারণত নোনতা সাধের হয়ে থাকে। কিন্তু টেস্টি স্যালাইন বিভিন্ন ফ্লেভারের পাওয়া যায় যেমন কমলা,লেবু,আম ইত্যাদি। এটি খেতে অনেক সুস্বাদু হয়। তাই বিশেষ করে বাচ্চারা এটি অনেক বেশি পছন্দ করে।
স্যালাইন খেলে কি পায়খানা কষা হয়
খাবার স্যালাইন মূলত আমরা ডায়রিয়া,কলেরা,পাতলা পায়খানা কিংবা বমির মাধ্যমে শরীর থেকে যে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যায় তার অভাব পূরণ করতে খেয়ে থাকি। স্যালাইন খুব দ্রুত শরীরের এই পানি শূন্যতা এবং ইলেক্ট্রোলাইটের অভাব পূরণ করে। স্যালাইন সাধারণত আমরা ডায়রিয়া কিংবা পাতলা পায়খানা হলে এর থেকে সুস্থতার জন্য খেয়ে থাকি। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে স্যালাইন খেলে কি পায়খানা কষা হয়? উত্তর হলো -না। খাবার স্যালাইন খেলে পায়খানা কষা হয় না। বরং স্যালাইন খেলে পায়খানা নরম রাখতে ভূমিকা পালন করে।
স্যালাইন খেলে কি গ্যাস বাড়ে
স্যালাইন লক্ষ লক্ষ ডায়রিয়ার,কলেরা ও অন্যান্য কারণে পানি শূন্যতা রোগীদের প্রাণ বাঁচায়। কিন্তু অকারনে কিংবা অতিরিক্ত স্যালাইন খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনেকেই হয়তো জানে না স্যালাইন খেলে কি গ্যাস বাড়ে? হ্যাঁ অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় স্যালাইন খেলে গ্যাস বেড়ে যায়। যদি সকালে খালি পেটে কেউ স্যালাইন খায় তাহলে তার গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। তাই বিনা কারণে অতিরিক্ত স্যালাইন খাওয়া ঠিক নয়। শুধুমাত্র ডায়রিয়া বা পানি শূন্যতা কারণে স্যালাইন খাওয়া উচিত।
মন্তব্য
স্যালাইন মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড,গ্লুকোজ এবং পানির একটি মিশ্রণ। ডায়রিয়া,কলেরা,পাতলা পায়খানা কিংবা বমির মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যে পানি শূন্যতা দেখা দেয় পূরণ করতে স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও স্যালাইনের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। স্যালাইন অবশ্যই বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে এবং নিয়ম অনুযায়ী খেতে হবে। অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় স্যালাইন খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিডনির রোগীদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে স্যালাইন খাওয়া উচিত। স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা এবং খাওয়ার সঠিক নিয়ম কি এই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url