গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায় বিস্তারিত জানুন

আপনি কি গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে করতে হয় জানতে চান? এই আর্টিকেলটিতে গরমে ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায় সে সম্পর্কে লিখা আছে। ত্বক সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য এর যত্ন নেওয়া জরুরি। আর এই গরমে ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরোয়া উপায় সবচেয়ে উত্তম।
এখানে ঘরোয়া উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল ,তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করা,ব্রণযুক্ত ত্বকের যত্ন,ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে লিখা আছে। এই তথ্যগুলো সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ভুমিকা

অতিরিক্ত গরমের কারণে ত্বকের উজ্জলতা নষ্ট হয় এবং রোদের পোড়া ভাব তৈরি হয়। তাই গরমে ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। প্রাকিতিক সরঞ্জাম দিয়ে ঘরে বসে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। এই গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে নেওয়া যায় সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত লিখা আছে।

গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায়

গরমে ত্বক সতেজ রাখার সর্বউত্তম উপায় হচ্ছে বেশি বেশি পরিমাণ পানি পান করা। অ্যালোভেরা, লেবুর রস, আলুর রস, টক দই, মধু ইত্যাদি দ্রবের মাধ্যমে এই গরমে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া উপায় নিচে দেওয়া হলো।

গরমে ত্বকের যত্ন নিতে গেলে সর্বপ্রথম যেই দিকটি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হলো কোন ভাবেই ভারী বা অতিরিক্ত মেকাপ করা যাবে না। মৃদু ফেসওয়াস অথবা পরিষ্কার পানির মাধ্যমে মুখমণ্ডল পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে। শরীর হাইড্রেট রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এতে করে ত্বক সতেজ থাকবে। এই সময় শরীরের আদ্রতা ঠিক রাখার জন্যে তরমুজ, শসা, ডালিম, কমলা ইত্যাদি খাবার খেতে হবে। গরমে ত্বকে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে কিছুক্ষন রেখে ধুয়ে ফেলা যেতে পারে। ত্বকের জালাপোড়া কমাতে এটি দারুণভাবে কাজ করে।

দিনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ বার পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ বারবার পরিষ্কার করতে হবে। এতে করে লোমকূপ ময়লার কারণে বন্ধ হয়ে যাবে না। ত্বকে যাতে সরাসরি রোদ না লাগে সেজন্য ছাতা ও ওড়না ব্যবহার করতে হবে। টমেটো রস মুখে ম্যাসেজ করতে হবে, এটি সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের কালো দাগ দূর করে। ডাবের পানির সাথে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে লাগালে গরমে হওয়া ঘামাচি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

ত্বকের উজ্জলতা ও ফর্সাভাব ফিরিয়ে আনার বড় বাঁধা হলো তৈলাক্ত ত্বক। তবে ঘরোয়া উপায়ে তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করা যায়। নিচে এই সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
  • ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন এবং লেবুতে ভিটামিন সি থাকে যা ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশ ও এক চা চামচ লেবু নিয়ে ফেস মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগানো যেতে পারে। মাস্কটি শুকিয়ে যাওয়ার পর মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
  • বেসন, লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণের মাধ্যমে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে, এতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক এসিড থাকে। যা ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব ও ময়লা দূর করতে সাহায্য করে।
  • শসা ও কমলার খোসার গুঁড়োতে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। যা ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রন করে এবং ত্বক সতেজ রাখে। শসা, কমলার খোসার গুড়া ও টক দই একসাথে মিশিয়ে পেস্ট করে ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন মেয়েদের

রাতে ত্বকের কোষের পুনগঠন হয় এজন্য রাতে গভীর ঘুমের প্রয়োজন। শরীর ভিতর থেকে সতেজ রাখার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। এছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতিতে মেয়েদের ত্বকের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।
  • ৪ টেবিল চামচ টক দই এর সাথে ২ চা চামচ হলুদ মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা যেতে পারে। এই মিশ্রনের ফলে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ও আন্টি ব্যাকটেরিয়াল বিশিষ্টের উৎপন্ন হয়। যা ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে এবং মৃত কোষ দূর করে।
  • যাদের ত্বকের গভীরে ময়লা আছে এবং তা দূর হতে চাই না, তারা কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে রেখে ত্বক পরিষ্কার করতে পারে। কারণ কাঁচা দুধে বিভিন্ন উপকারি এনজাইম, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, খনিজ ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে। যা ত্বকের গভীর থেকে ময়লা দূর করতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসপ্যাক তৈরি

বিভিন্ন উপাদান দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসপ্যাক তৈরি করা যায় তবে চালের গুড়ার সাথে অ্যালভেরা জেল মিশিয়ে যেই ফেসপ্যাকটি তৈরি করা হয়, সেটি সবচেয়ে কায্যকরী হিসেবে ধরা হয়। এতে কোজিক এসিড, ফেরুলিক এসিড, ভিটামিন ও খনিজ থাকে। যা ত্বকের জন্য অতান্ত উপকারী।

এছাড়াও ৪ টেবিল চামচ টক দই এর সাথে ২ চা চামচ মধু ও ২ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি, ল্যাকটিক এসিড ও বিভিন্ন উপকারী উপাদান থাকে যা ত্বক কোমল ও আদ্র রাখতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল

ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করার জন্য নিরাপদ ও সস্তা মাধ্যম হচ্ছে ঘরোয়া পধতিতে ফেসিয়াল। সাধারণত ম্যাসাজ, ফেসপ্যাক, ভাব নেওয়া ইত্যাদিকে ফেসিয়াল এর অন্তভুক্ত ধরা হয়। নিচে কিছু ঘরোয়া ফেসিয়াল দেওয়া হলোঃ
  • ত্বক আদ্র ও জীবাণু মুক্ত রাখতে ত্বকে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে কিছুক্ষন ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • মুলতানি মাটি ও মধুর মাধ্যমে ফেস মাক্স তৈরি করা যায়। এটিতে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম আয়রন, অ্যান্টিবায়কটিরিয়াল ও এন্টিসেপটিক থাকে। যা ত্বকের জ্বালাপোড়া ব্রণ কমায় এবং তৈলাক্ততা উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

ব্রণযুক্ত ত্বকের যত্ন

ব্রণযুক্ত ত্বক স্বাভাবিক করার জন্য আমরা অনেকে বিভিন্ন ধরনের দামি সাবান ফেসওয়াশ ও ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। যার ফলাফল অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। ঘরে বসেই খুব সাধারণভাবে ব্রণযুক্ত ত্বকে যত্ন নেওয়া যায়। যেমনঃ
  • হলুদ ও নিম পাতা একসাথে বেটে লাগানো যায়। যা ত্বকের ব্রণ ভালো করতে সাহায্য করে।
  • মধু ও দারুচিনির পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  • অনেক সময় ব্রণ যুক্ত স্থানে অনেক ব্যথা হয়। আর এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ব্রণ যুক্ত স্থানে বরফ ঘষতে হবে।
  • ভাজাপড়া জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং প্রতিদিন খাবার তালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল অবশ্যই রাখতে হবে।

গরমে ত্বক ফর্সা করার উপায়

গরমে বাহিরে চলাফেরার কারণে ত্বকে রোদে পোড়া এবং কালচে ভাব তৈরি হয়। আর এই রোদে পোড়া ও কালচে ভাব ঘরোয়া উপায়ে দূর করা যায়। নিচে তা দেওয়া হলোঃ
  • পাকা পেঁপে ও মধুতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ, ই, সি থাকে। তাই পাকা পেঁপে ও মধু একসাথে পেস্ট করে ত্বকে লাগানো যায় এতে ত্বক ফর্সা হয়।
  • রোদে পোড়া দাগ দূর করতে আলুর রস ম্যাজিকের মত কাজ করে। এতে থাকা এনজাইম কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে। তাই আলুর রস ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • রোদে পোড়ার হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে বাহিরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের একটি সানস্ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
  • ত্বক সতেজ ও হাইড্রেট রাখতে দিনে কমপক্ষে 8 থেকে 10 গ্লাস পানি পান করতে হবে।

ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করার উপায়

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করা যায়। নিচে তক উজ্জ্বল মসৃণ করার কিছু উপায় দেওয়া হলোঃ
  • নারকেল তেলের সাথে সামান্য পরিমাণ চিনি ও দুই চামচ কফির পাউডার মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।
  • পাকা কলায় পটাশিয়াম ও ভিটামিন থাকে। তাই পাকা কলার পেস্ট করে মুখে লাগানো যেতে পারে এতে ত্বক নরম ও মসৃণ হয়।
  • হালকা গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
  • ত্বক উজ্জ্বল রাখতে চাইলে অবশ্যই সানস্ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

৩ দিনে ফর্সা হওয়ার নিয়ম

তিন দিনে ত্বকের কালচে ভাব দূর করে ফ্রেশ লুক আনা সম্ভব। তবে প্রাকৃতিকভাবে তিন দিনে ফর্সা হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এনে ত্বকের উজ্জ্বলতা পরিবর্তন করা যায়।

টক দই, লেবুর রস, হলুদ, বেসন ও মধু মিশিয়ে ঘন একটি পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর পেস্টটি ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। পরবর্তীতে পরিষ্কার পানি দিয়ে ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং সম্ভব হলে সকালে খালি পেটে এক গ্লাস লেবু পানি খেতে হবে। ত্বকের যত্নের সঠিক ফলাফল পেতে রোদে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

মন্তব্য

এই আর্টিকেলে থাকা সকল তথ্য রিসার্চ এর উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। যার কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যের তারতম্য হতে পারে। তবে যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url