মিনি স্ট্রোক এর লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন কি
আপনি কি জানতে চান মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ কি ? একজন মানুষের মিনি স্ট্রোক হয়েছে কিনা জানার জন্য যেসব লক্ষণ সম্পর্কে জানা দরকার সে সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত লিখা আছে। মিনি স্ট্রোক মূলত বড় স্ট্রোকের সতর্কবার্তা তাই মিনি স্ট্রোক এর লক্ষণ সম্পর্কে আমাদের সবার জ্ঞান থাকা দরকার।
এই আর্টিকেলটিতে মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ, কারণ,এর প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্রেন স্টক হলে কি হয়, এর চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। তথ্যগুলো ভালোভাবে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
ভুমিকা
মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ ও বড় স্ট্রোকের লক্ষণ গুলো প্রায় একই রকম। তবে মিনি স্ট্রোকের ক্ষেত্রে কিছু সময়ের মধ্যে অথবা ঘন্টাখানেকের মধ্যে রোগী স্বাভাবিক হয়ে যায়। বড় স্ট্রোক এর হাত থেকে রক্ষা পেতে মিনি স্ট্রোককে অবহেলা করা যাবে না। চলুন মিনি স্ট্রোক সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানি।
মিনি স্ট্রোক এর লক্ষণ
যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন মিনি স্ট্রোক হয়েছে সেগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ
১। মিনি স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় রোগীর ভারসাম্য ঠিক থাকে না অর্থাৎ মাথা ঘুরে এবং চলাফেরা করতে সমস্যা হয়।
২। কথা বলার সময় কথা অস্পষ্ট হয় অর্থাৎ কথা জড়িয়ে যায় এবং অন্যের কথা বুঝতেও সমস্যা হয়।
৩। হঠাৎ চোখে দৃষ্টি শক্তি কমে যায় এবং রোগী চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করে।
৪। মিনি স্ট্রোকের ক্ষেত্রে হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই প্রচুর মাথা ব্যাথা শুরু হয়।
৫। মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে যাওয়া অথবা শরীরের কোন এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ।
মিনি স্ট্রোক কেন হয়
সাধারণত মস্তিষ্কে কিছু সময়ের জন্য রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে সেই অবস্থাকে মিনি স্ট্রোক বলা হয়ে থাকে। মিনি স্ট্রোক কিছু সময় পর একা একা ভালো হয়ে যায় তাই তেমন কোন স্থায়ী ক্ষতি হয় না। তবে মিনি স্ট্রোক থেকে বড় স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মিনি স্ট্রোক কেন হয় তা জানা জরুরি।
১। মিনি স্ট্রোক সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের সমস্যা জনিত কারণে ব্রেনে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে হয়ে থাকে।
২। এছাড়াও ডায়াবেটিকস এবং রক্ত নালিতে উচ্চ কোলেস্টরেল জমার কারণে মিনি স্ট্রোক হতে পারে।
৩। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাপোড়া অথবা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মিনি স্ট্রোক হতে পারে।
৪। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শরীর চর্চার অভাব হলে মিনি স্ট্রোক হতে পারে।
৫। ধূমপান একটি বাজে অভ্যাস, এর ফলে মিনি স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়।
ব্রেন স্ট্রোক হলে কি হয়
মস্তিষ্কের রক্তনালীর ছিড়ে যাওয়ার ফলে রক্তক্ষরণ অথবা রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে রোগীর যে অবস্থার তৈরি হয় তাকে ব্রেন স্ট্রোক বলা হয়। আর ব্রেন স্ট্রোক হলে কি কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে। তাই ব্রেন স্ট্রোক হলে কি কি হয় সে সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার।
১। ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগীর স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমে যায় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়।
২। এই সময় শরীরের এক পাশ প্যারালাইসিস হয়ে যায় এবং মুখ একদিকে বেঁকে যায়।
৩। ব্রেইন স্ট্রোক হলে হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই মাথা ঘোরে।
৪। এই সময় মাথাব্যথা এমন তীব্র আকার ধারণ করে যে এটাকে জীবনের সবথেকে খারাপ মাথাব্যথা হিসেবে ধরা হয়।
ব্রেইন স্ট্রোকের চিকিৎসা
ব্রেইন স্ট্রোক এর লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে নিজে থেকে কোন চিকিৎসা বা কোন খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে করতে হবে। কারণ রোগী কত দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে এবং রোগীর স্ট্রোকের ধরনের উপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা।
১। ব্রেইন স্ট্রোকের ধরনের উপর নির্ভর করে ডাক্তার রক্ত জমাট বাধা ভাঙার ঔষধ বা ইনজেকশন দিয়ে থাকে।
২। অনেক সময় রক্ত তরল করার বা পাতলা করার ওষুধও দেওয়া হয়।
৩। উচ্চ রক্তচাপ এবং মস্তিষ্কের ভেতরের ফোলা কমানোর জন্য ডাক্তার প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকে।
৪। রোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি প্রয়োজন হয় তাহলে দ্রুত অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে রোগীর মস্তিষ্কের রক্তনালী গুলো মেরামত করা হয়।
সর্বোপরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করতে হবে। কারণ স্ট্রোক করার প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যে ডাক্তারের শরণাপন্ন করা গেলে রোগীকে বড় ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
মিনি স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা
মিনি স্ট্রোক এর তেমন কোন প্রাথমিক চিকিৎসা নেই, তবে বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে যেতে পারে। যেগুলো রোগীকে বড় স্ট্রোক এর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। চলুন এই সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানি।রোগীকে খাবার অথবা পানি কোন কিছুই দেওয়া যাবে না। কারণ এগুলো ফুসফুসে ঢুকে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। রোগীকে বেশি নড়াচড়া করতে দেওয়া যাবে না। সবচেয়ে উত্তম রোগীকে না শোয়া না বসা অবস্থায় শান্ত ভাবে রাখা। রোগীর ঠিক কয়টার সময় কোন কোন লক্ষণ গুলো প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো মনে রাখতে হবে এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারকে সেগুলো জানাতে হবে। রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যায় অথবা শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, তবে অভিজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা CPR দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার এর শরণাপন্ন করা। লক্ষণ গুলো চলে গেলেও সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
মিনি স্ট্রোক এর চিকিৎসা
মিনি স্ট্রোক হওয়ার দুই দিনের মধ্যে বড় স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই রোগী স্বাভাবিক হয়ে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মিনি স্ট্রোক এবং ব্রেন স্ট্রোক চিকিৎসা প্রায় একই রকম। নিচে মিনি স্ট্রোকের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হলোঃ
১। এই অবস্থাতে ডাক্তার রোগীর কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তনালীতে চর্বির মাত্রা কমানোর ওষুধ দিয়ে থাকে।
২। রোগীর যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ দিয়ে থাকে।
৩। জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করার দরকার। যেমনঃ যদি ধূমপান ও মদ্যপানের মত বদভ্যাস থাকে তাহলে তা পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।
৪। রোগীর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
৫। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। আর অতিরিক্ত লবণ এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
মন্তব্য
এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ রিসার্চ এর উপর ভিত্তি করে লেখা। ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যের তারতম্য হতে পারে। তবে যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url