হঠাৎ স্ট্রোক করলে করণীয় কি এখনি জেনে নিন

আপনি কি জানতে চান হঠাৎ স্ট্রোক হলে কি করতে হয় ? হঠাৎ স্ট্রোক হলে আমাদের করণীয় কি সে সম্পর্কে এ আর্টিকেলে বিস্তারিত লিখা আছে। মানুষের স্ট্রোক যেকোনো সময় হতে পারে। তাই কেউ হঠাৎ স্ট্রোক করলে করণীয় কি সে সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
এই আর্টিকেলটিতে স্টোকের কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার, প্রাথমিক চিকিৎসা, ঔষধ ও রোগীর খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। তাই স্ট্রোক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পূরণ পড়ুন।

ভুমিকা

স্ট্রোক বর্তমান সময়ে একটি প্রাণঘাতী ঝুকির নাম।বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমের সময় এর হার অনেক বেশি বেড়ে যায়। কিন্তু একটু সাবধানতা এই ঝুঁকির হাত থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে ও সঠিক চিকিৎসা আপনার জীবন বাচাতেগ পারে।স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। কারণ স্ট্রোক করার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলে রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয়। চলুন এ সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানি।

হঠাৎ স্ট্রোক করলে করণীয় কি

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে সময় নোট করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিউরোলজি অথবা স্ট্রোক বিভাগ আছে এরকম হাসপাতালে নিতে হবে। রোগীর পোশাক ঢিলেঢালা করে দিতে হবে এবং রোগীকে একপাশে কাত করে শুয়ে দিতে হবে। রোগীর শ্বাস নিতে যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্টোকের রোগীকে খাবার ও পানি দেওয়া যাবে না। কারণ এগুলো শ্বাসনালীতে আটকে গেলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। স্ট্রোকের রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোন প্রকার ঔষধ দেওয়া যাবে না। সর্বোপরি স্ট্রোকের কোন লক্ষণ প্রকাশ পেলে এ বিষয় নিয়ে অবহেলা না করে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রতিকার

স্ট্রোকের যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাধারণ কথা বলতে গেলে কথা আটকে যায় বা জড়িয়ে যায়। এছাড়াও মুখ বেঁকে যায় এবং এক হাত অবশ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও শরীরের ভারসাম্য হারানো, তীব্র মাথাব্যথা এবং দুচোখে ঝাপসা দেখাও স্ট্রোক করার লক্ষণ।

স্টোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করা। প্রতিদিন শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে এবং অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি অথবা শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধূমপান ও মাদক সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। কারণ এগুলো স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা

স্ট্রোকের প্রাথমিক কোন চিকিৎসা নেই তবে প্রথম অবস্থাতেই সঠিক পদক্ষেপ নিলে রোগীকে বাঁচানো এবং ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চলুন আমরা জেনে নিই স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

১। সর্বপ্রথম যে পদক্ষেপ নিতে হবে সেটি হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী হাসপাতালে রোগীকে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
২। স্ট্রোক এর রোগীকে খাবার, পানি অথবা ঔষধ কোন কিছু খেতে দেওয়া যাবে না। কারণ এই সময় গলার পেশিগুলো ঠিকঠাক মত কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে খাবারগুলো ফুসফুসে ঢুকে রোগী মারা যেতে পারে।
 
৩। রোগীর আশেপাশে ভিড় জমে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রোগীকে টাইট জামা কাপড় খুলে দিয়ে ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করে দিতে হবে।

৪। রোগী ঠিকভাবে কথা বলতে পারছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং রোগীর শরীরের কোন অংশ অবশ হয়ে গেছে কিনা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাতে হবে।

ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ

কোন ব্যক্তির মস্তিষ্কে রক্তনালী ফেটে রক্তপাত অথবা রক্তনালীতে বাধা সৃষ্টি হলে তাকে ব্রেন স্ট্রোক বলে। যেসব কারণে ব্রেন স্ট্রোক হয় তা নিচে দেওয়া হলো।

১। ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করলে ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে।

২। হার্টের সমস্যা থাকলে সেখান থেকে অনেক সময় ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে।

৩। সাধারণত উচ্চ রক্তচাপকে ( ১৮০-২০০ এর উপরে ) ব্রেন স্ট্রোকের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়।

৪। ধুমপান ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করলে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, ফলে ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৫। কোন কোন ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবেও ব্রেন স্ট্রোক হয়ে থাকে। অর্থাৎ পূর্বে পরিবারের কারো ব্রেন স্ট্রোক হয়ে থাকলে সেই সূত্র ধরে পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ব্রেইন স্ট্রোকের ঔষধ

ব্রেইন স্ট্রোকের রোগীকে সাধারণত রক্ত জমাট বাধা ভাঙার ঔষধ এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে স্ট্রোকের ধরন এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ব্রেইন স্ট্রোকের ওষুধ নির্ভর করে।রোগীর অবস্থার প্রেক্ষিতে কোন কোন সময় ডক্টর উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের কমানোর ঔষধ দিয়ে থাকেন। এছাড়াও ডাক্তার মস্তিষ্কের ফোলা কমানো এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ঔষধ দিয়ে থাকেন। যদি হৃদপিন্ডের সমস্যা থাকে তবে ডাক্তার হৃদপিন্ডের গতি নিয়ন্ত্রক ও শুধু দিয়ে থাকে।
 
বিশেষ সর্তকতাঃ ব্রেইন স্টোকের রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোন প্রকার ওষধ দেওয়া যাবে না। এতে করে রোগী জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলাতে হবে।

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা

ব্রেন স্টোকের রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রোগীকে খাবার দিতে হবে। কারণ ব্রেন স্টোকের রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া জরুরি। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

১। প্রাথমিক অবস্থায় রোগীর খাবার গিলতে অসুবিধা হয় তাই এমন খাবার দিতে হবে যাতে রোগী সহজেই তা গিলতে পারে। যেমনঃ খিচুড়ি, ডাবের পানি, সুজি, ব্লেন্ড করা সবজি ইত্যাদি।

২। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এমন খাবার দিতে হবে। যেমনঃ লাল আটার রুটি, ওটস, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি।

৩। প্রতিদিনের খাবারে ফলমূল রাখতে হবে বিশেষ করে কলা এবং তার সাথে বিভিন্ন ধরনের রঙিন শাকসবজি রাখতে হবে। কারণ কলায় পটাশিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

৪। প্রোটিন হিসেবে চর্বিহীন মুরগির বুকের মাংস ডিমের সাদা অংশ এবং পাতলা ডাল রাখা যেতে পারে।

৫। তবে ব্রেন স্ট্রোকের রোগীকে কোনভাবেই অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাপোড়া, চর্বিযুক্ত ও কোল্ড ড্রিংকস এ জাতীয় খাবার খেতে দেওয়া যাবে না।

মন্তব্য

সর্বোপরি কারো স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে কাল বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ স্ট্রোকের তেমন কোন প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। তবে আর্টিকেলটিতে যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আপনারা আর্টিকেলে থাকা তথ্যগুলো পড়ে উপকৃত হবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url