হাম রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা বিস্তারিত ২০২৬

এই আর্টিকেলটিতে হাম রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখা হয়েছে। হাম রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সবাই সঠিক ধারণা রাখে না। ফলে জীবন ঝুকির মুখে পড়ে। হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানলে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
এই আর্টিকেলে হাম রোগ কি, লক্ষণ, রুবেলা টিকা ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শিশুদের ও বড়দের হাম হলে কি খেতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত লিখা আছে। তথ্যগুলো বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি সম্পুন পড়ুন।

ভুমিকা

হাম রোগটি সাধারণত শিশুদের ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের হয়ে থাকে। কারণ এটি একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগটি সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭-১৪ দিনের মাথায় এর লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়। হাম রোগটির লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসা দিলে এ সমসা থেকে দ্রুত সমাধান পাওয়া সম্ভব। নিচে হাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো।

হাম রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশে হাম রোগ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু এটি একটি সংক্রামক ভাইরাস জনিত রোগ সুতরাং হাম রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসা নিতে না পারলে এই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিচে হাম রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্যগুলো দেওয়া হলো।

হাম রোগের লক্ষন

হাম রোগ হলে প্রাথমিক অবস্থায় চোখ লাল হয়ে পানি পড়া, সর্দি, কাশি তীব্র জ্বর হতে পারে। এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২-৩ দিন পর মুখের ভিতর এবং গালের ওপর ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা দেয়। এরপর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়।

হাম রোগের চিকিৎসা

হাম রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য অবশ্যয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ও অন্নান্য ওষুধ দিতে হবে। তবে হাম রোগের দ্রুত সুস্থতার জন্য উচ্চ মাত্রার ভিটামিন এ এর বিকল্প নেই। এর সাথে রোগীর সহজে হজম হয় এমন নরম ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। রোগীর যাতে ডিহাইড্রেশন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এজন্য রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

হাম রোগ কি

হাম রোগ হলো রুবিওলা ( Rubeola ) নামক ভাইরাস জনিত রোগ। এটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক ভাইরাস জনিত রোগ তাই এই রোগ এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগটি প্রথম অবস্থায় শ্বাসতন্ত্রে সংক্রামিত হয় এবং ধীরে ধীরে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। হাম থেকে নিউমনিয়া ও লিভারের সমস্যার মতো জটিল রোগ হতে পারে।

হাম রোগটিতে আক্রান্ত ব্যাক্তির হাচি, কাশি ও কথা বলার মাধ্যমে এই ভাইরাস সুস্থ মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়। কারণ এই ভাইরাসটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে এই রোগটি সাধারণত শিশুদের বেশি হয়ে থাকে, তবে যদি কোন বাক্তির টিকা দেওয়া না থাকে তবে যেকোনো বয়সের বাক্তি এই রোগ দ্বারা সংক্রামিত হতে পারে। রোগীর শরীরে তীব্র জ্বর ( ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ) এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ ওঠা এই রোগের প্রধান লক্ষণ।

হাম রোগের লক্ষণ

হাম রোগের ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার ১০-১৪ পর সাধারণত এর লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়। যেহেতু হাম রুবিওলা ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ তাই এর লক্ষণ গুলো যত দ্রুত সম্ভব চিহ্নিত করা জরুরি। বর্তমানে ২০২৬ সালের চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী হাম রোগের লক্ষণ গুলো নিচে দেওয়া হলো।
  • হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো শরীরে তীব্র জ্বর থাকা। শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
  • অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়া, হাচি এবং শুকনো কাশি এই রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পাই।
  • হাম রোগ হলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চোখ লাল হয়ে থাকে এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়।
  • তীব্র জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ২-৩ দিন পর মুখের ভিতর ও গালের উপরে ছোট ছোট সাদাটে অথবা ধুসর দাগ দেখা দেয়।
  • প্রাথমিক লক্ষণ গুলো প্রকাশ পাওয়ার ৩-৫ দিন পর থেকে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়।
  • ফুসকুড়িটি প্রথম অবস্থায় কানের পিছন বা কপাল থেকে শুরু হয়ে মুখ, ঘাড়, বুক দিয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তা লালচে দাগ তৈরি করে।

শিশুদের হাম হলে কি খেতে হবে

২০২৬ সালের চিকিৎসকের পরামর্শ ও সাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী হাম হলে শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হজমশক্তি কিছুটা কমে যায়। তাই এই অবস্থায় যতটা সম্ভব তরল ও সহজে হজম যোগ্য খাবার দিতে হবে। রোগীকে দ্রুত সুস্থ করার জন্য যেসব খাবার দিতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো।
  • শিশুদের হাম অবস্থায় ওরাল স্যালাইন এবং ডাবের পানি বেশি পরিমাণ খাওয়াতে হবে। তাইলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট এর ভারসম্য বজায় থাকবে।
  • পাতলা ডালের পানি, লেবুর রস ও চিকেন স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে এতে করে রুচি ফিরে এবং শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।
  • পালং শাক, পাকা পেপে, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ছোট মাছ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি ভিটামিন এ যুক্ত খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
  • চাল-ডাল ও সবজি দিয়ে পাতলা খিচুড়ি, টক দই, সুজি ও সাগু জাতীয় নরম ও সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে।
  • চর্বিহীন লাল মাংস, মুরগির স্টু এবং ডাল খাওয়ানো যেতে পারে। কারণ এগুলো প্রোটিন ও জিংকের ভালো উৎস।
  • ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তৈলাক্ত, বেশি ঝাল বা মশলাযুক্ত এবং চিনি যুক্ত কোমল পানীয় পরিহার করতে হবে।

বড়দের হামের চিকিৎসার উপাই

হাম ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর নিদিষ্ঠ কোন অ্যাান্টিভাইরাল নেই। এই রোগটি সাধারণত শিশুদের হয়, তবে টিকা দেওয়া না থাকলে বড়দেরও হতে পারে। আর এই ক্ষেত্রে হাম রোগের প্রকোপ আরো বেশি হয়। আর এই প্রকোপ থেকে নিস্তার পেতে বড়দের হামের চিকিৎসার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
  • হামে আক্রান্ত বাক্তির বিছানা আলাদা করতে হবে এবং পর্যাপ্ত শারীরিক বিশ্রামের ব্যাবস্থা করতে হবে।
  • লক্ষণ গুলো চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর, ব্যাথা ও ভিটামিন এ এর জন্য প্যারাসিটামল ও ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে হবে।
  • ইলেক্ট্রোলাইট এর ভারসম্য রক্ষা করতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি ও ফলের রস খাওয়াতে হবে।
  • এই সময় কাশির কারণে অস্বস্থি ও গলা ব্যথা হয় তাই হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া বা কুল্কুচি করতে হবে।
  • হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে বার বার শরীর মুছে দিতে হবে এবং রোগীকে উচ্চ আলোযুক্ত স্থানে না রেখে মৃদু আলোতে রাখতে হবে।
  • বড়দের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, টানা জ্বর ও মাথা ব্যথার মত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

বড়দের হাম হলে কি খেতে হবে

বড়দের হাম হলে সহজে হজম হয় ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। হাম হলে মাছ,মাংস ও ডিম খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে এরকম প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে। দ্রুত সুস্থ হতে স্বাভাবিক সুষম খাবার চালিয়ে যেতে হবে। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
  • এই সময় তরল খাবার(যেমনঃ চিকেন স্যুপ, ফলের রস, লেবুর রস, ডাবের পানি ও ওরাল স্যালাইন) বেশি পরিমাণ খেতে হবে।
  • ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার (যেমনঃ পালং শাক, ছোট মাছ, কলিজা, মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে।
  • পাতলা খিচুড়ি, ওটস, পাতলা করে রান্না করা মাছ, সুজির পায়েস মুরগির মাংস ও ডিম এই জাতীয় সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে।
  • অতিরিক্ত ঝাল, মশলাদার, ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার ও কোমল পানীয় খাবার পরিহার করতে হবে।

হাম রুবেলা টিকা কখন দিতে হয়

বর্তমানে বাংলাদেশে হামের সংক্রামণের হার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এবং WHO হামের রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ শুরু করেছেন। এ তথ্য অনুযায়ী সাধারণত শিশুদের দুইবার টিকা দেওয়া হয়। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

হামের টিকার ডোজ

  • শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়।
  • আর ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ সম্পূর্ণ করা হয়।

টিকা দেওয়ার নিয়ম

  • সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস অর্থাৎ ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদেরকে এই টিকা দেওয়া হয়।
  • হাম-রুবেলা টিকার দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ২৮ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে।
  • যদি শিশু জ্বর বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থ থাকে তবে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিতে হবে।

হাম রুবেলা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হাম-রুবেলা টিকার তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি দেওয়া নিরাপদ ও কার্যকর। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিচে হাম-রুবেলা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত লিখা হলো।

  • টিকা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে হালকা জ্বর আসতে পারে।
  • টিকা দেওয়া স্থানে লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং ব্যাথা অনুভব হতে পারে, তবে এটি সাময়িক।
  • কান এবং গলার পাশে সাময়িকভাবে সামান্য ফুলে যেতে পারে।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত জয়েন্টে ব্যথা হয় না। তবে একটু বড়দের ক্ষেতে সাময়িকভাবে জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে।
হামের টিকার সাথে দীর্ঘমেয়েদী রোগের কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি বিশেষ কোনো সমস্যা যেমন শ্বাসকষ্ট ও শরীর ফুলে যাওয়া এই রকম কোন সমস্যা দেখা দেই তবে অবশ্যয় ডাক্তারের পরামশ নিতে হবে।

মন্তব্য

এই আর্টিকেলটি সম্পুন গবেষণার উপর নির্ভর করে লিখা হয়েছে। রিসার্চ এর কারনে কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যের তারতম্য হতে পারে। তবে যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url