ঘামাচি হলে করনীয় কি সঠিক তথ্য জানুন
ঘামাচি হলে করণীয় কি? ঘামাচি দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্রিম বা পাউডার ব্যবহার করে বাচ্চাদের ও বড়দের ঘামাচি দূর করা যায়। ঘামাচি দূর করতে কোন ওষুধটি খাব এবং ঘামাচির কোন ক্রিম বা পাউডার ভালো এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের আর্টিকেলটি পড়ুন।
অতিরিক্ত গরমে বেশিরভাগ মানুষের শরীরে ঘামাচি দেখা দেয়। ঘামাচি হলে করণীয় কি এবং কোন ক্রিম বা পাউডার ব্যবহার করবেন এ সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জানুন।
ভূমিকা
তীব্র গরমে ঘাম জমে শরীরে ঘামাচি হয়ে থাকে। ছোট থেকে বড় সকল বয়সের মানুষের শরীরে এই ঘামাচি হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি সমস্যা। কিছু ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে ঘামাচি দূর করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন ক্রিম বা পাউডার ব্যবহার করে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ঘামাচির পরিমাণ অতিরিক্ত হলে কিংবা অসহ্যকর হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ঘামাচি হলে করনীয়
অতিরিক্ত গরমে বা খেলাধুলার সময় কিংবা ব্যায়াম করার সময় শরীর থেকে ঘাম বের হয়। ঘামের সাথে শরীরের থাকা বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ও লবণ বের হয়ে যায়। ঘামে থাকা এই লবণ শরীরের লোমকূপ বন্ধ করে দেয় ফলে শরীর থেকে ঘাম বের হয় না। শরীর থেকে ঘাম বের হতে না পারার কারণে শরীরে ঘামাচি হয়ে থাকে। ঘামাচি হয়ে গেলে এটি সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘামাচি হলে করণীয় কি এ সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জেনে নিন।
১। ঘামাচি হলে সর্বপ্রথম যে বিষয়টির ওপর লক্ষ্য রাখা উচিত সেটি হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। শরীর ঘেমে গেলে দ্রুত মুছে নিতে হবে বা পরিষ্কার রাখতে হবে।
২। অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীর ঘেমে গেলে দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করতে হবে।
৩। পরিষ্কার ঢিলে ঢালা সুতি পোশাক পরতে হবে। শক্ত সুতার কাপড় কিংবা সিল্কের কাপড় থেকে দূরে থাকাই উত্তম।
৪। রোদের মধ্যে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ফ্যান বা এসির ঠান্ডা পরিবেশে থাকতে হবে ।
৫। বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।
৬। অ্যালোভেরার জেল ঘামাচির আক্রান্ত স্থান এ ব্যবহার করলে অনেক আরাম পাওয়া যায়।
৭। গোলাপ জলের সঙ্গে মুলতানি মাটি মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ঘামাচি কমে যায়।
৮। ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে বরফ কিংবা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে অনেকটা শান্তি পাওয়া যায়।
৯। নখ বা অন্য কোন কিছু দিয়ে ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থান চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকেল।
ঘামাচি দূর করার উপায়
গ্রীষ্মকালে শরীরে ঘামাচি বেড়ে যায়।কারণ গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শরীরে যে ঘাম হয়ে থাকে তা যখন বের হতে না পারে তখন ত্বকে ঘামাচি দেখা দেয়। শরীরে ঘামাচি দেখা দিলে ত্বকে চুলকানি জ্বালাপোড়া এবং খুবই অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়। ঘামাচি দূর করার কিছু উপায় রয়েছে নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।
- শরীর পরিষ্কার ও শুকন রাখতে হবে। শরীর ঘেমে গেলে দ্রুত ঘামগুলো মুছে দিতে হবে।
- সব সময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করতে হবে। গরমে গেলে ঘামাচির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
- বেশি বেশি পানি পান করতে হবে এবং লেবুর রস ও ডাবের পানি খেতে হবে।
- মেন্থল যুক্ত লোশন ব্যবহার করতে হবে।
- চন্দনগুড়ো এবং গোলাপ জল দিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করে ঘামাচি দূর করা যায়।
- নিম পাতার পেস্ট কিংবা নিম পাতা পানিতে দিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করলে ঘামাচি কমে যায়।
বাচ্চাদের ঘামাচি দূর করার ঘরোয়া উপায়
অতিরিক্ত গরমের কারণে ঘামাচি রোগটা ছোট থেকে বড় সকলের শরীরে হয়ে থাকে। অতিরিক্ত চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া হওয়ার কারণে বাচ্চাদের ঘামাচি সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে বাচ্চাদের ঘামাচি দূর করা যায়। বাচ্চাদের ঘামাচি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জনুন।
১। বরফের টুকরো ব্যবহারঃ ঘামাচির কারণে শরীরে যে জ্বালা পোড়া ও চুলকানি হয়ে থাকে তা কমাতে কয়েকটি বরফের টুকরো নিয়ে একটি সুতি কাপড়ে পেঁচিয়ে ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ চেপে রাখলে আরাম পাওয়া যায়।
২। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ বাচ্চারা সাধারণত সবসময়ই খেলাধুলা করতে পছন্দ করে। খেলাধুলার সময় তাদের শরীরে ধুলাবালি জমে এবং শরীর ঘেমে যায়। তাই বাচ্চাদেরকে প্রতিদিন একবার কিংবা প্রয়োজন হলে দুইবার গোসল করিয়ে দিতে হবে। গোসল শেষে শরীর মুছে শুকিয়ে রাখতে হবে।
৩। পোশাকঃ বাচ্চাদেরকে অবশ্যই সুতির পোশাক পরাবেন। কারণ সুতি পোশাক ঘাম চুষে নিতে সাহায্য করে। এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরাবেন তাতে শরীরের ভিতর বাতাস ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারে।
৪। চন্দনগুড়ো এবং গোলাপ জলের পেস্টঃ চন্দন গুড়োর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানের উপর লাগিয়ে যখন শুকিয়ে যাবে তখন তা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
৫। শীতল পরিবেশঃ বাচ্চাদেরকে যতটা সম্ভব এসি কিংবা ফ্যানের বাতাসের নিচে রাখতে হবে। অতিরিক্ত গরম কিংবা রোদ থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখলে ঘামাচি তাড়াতাড়ি কমে যায়।
উপরোক্ত ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে খুব সহজেই বাচ্চাদের ঘামাচি দূর করা যায়। বাচ্চাদের ঘামাচি দূর করার জন্য আমরা অনেকেই বিভিন্ন রকমের ক্রিম ও পাউডার ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু ক্রিম কিংবা পাউডার ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কেননা ক্রিম বা পাউডার বাচ্চাদের শরীরের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে।
বাচ্চাদের ঘামাচির ক্রিম
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাদের শরীরে ঘামাচির ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো। বাচ্চাদের শরীরে ঘামাচি হলে এটি অনেক জ্বালাপোড়া করে এবং চুলকায়। এই অসহ্যকর পরিস্থিতি থেকে কিছুটা শান্তি পাওয়ার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালামাইন রোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জিংক অক্সাইড যুক্ত ক্রিম যেমনঃ De-rash Ointment ও Himalaya Baby Diaper Rash Cream ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ক্রিমগুলো বাচ্চাদের শরীরে ঘামাচির কারণে যে লালচে ভাব হয় তা কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে ঠান্ডা রাখে।
সতর্কতাঃ বাচ্চাদের ঘামাচির ক্রিম ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বড়দের ঘামাচি পাউডার কোনটা ভালো
এই অতিরিক্ত গরমে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের শরীরেও ঘামাচি হয়ে থাকে। ঘামাচির এই অসহ্যকর যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য আমরা বিভিন্ন রকমের ঘামাচি পাউডার ব্যবহার করে থাকি। ঘামাচির পাউডার ব্যবহারে শরীরের ঘাম চুষে নিয়ে শরীরকে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও ঘামাচি পাউডার জীবাণুমুক্ত করে এবং ঘামের দুর্গন্ধতা দূর করে। ঘামাচি পাউডার ব্যবহারে ঘামাচির কারণে যে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া করে তা কমিয়ে দেয়। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না বড়দের ঘামাচি পাউডার কোনটা ভালো? নিচে কিছু জনপ্রিয় এবং কার্যকরী ঘামাচি পাউডারের নাম উল্লেখ করা হলো।
- তিব্বত ঘামাচি পাউডার (Tibbat Ghamachi Powder)
- মিল্লাত ঘামাচি পাউডার (Millat Prickly Heat Powder)
- স্নেক ব্র্যান্ড (Snake Brand Prickly Heat Powder)
- রিভাইভ কুলিং পাউডার (Revive Cooling Prickly Heat Powder)
- ডার্মি কুল (Dermi Cool Prickly Heat Powder)
বাচ্চাদের ঘামাচি পাউডার কোনটা ভালো
বাচ্চাদের শরীরে পাউডার দেওয়ার আগে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত। ঘামাচি পাউডার দেয়ার আগে বাচ্চার শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পাউডার সরাসরি শরীরে না দিয়ে হাতে নিয়ে বাচ্চার শরীরে লাগিয়ে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। বাচ্চাদের শরীরে অতিরিক্ত পাউডার দেয়া যাবে না এতে শরীরের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ঘামাচির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। বাচ্চাদের ত্বকের উপর নির্ভর করে ঘামাচির পাউডার ব্যবহার করা উচিত। বাচ্চাদের জন্য জনপ্রিয় এবং কার্যকর কিছু পাউডারের নাম নিচে দেয়া হল।
- Himalaya Baby Powder.
- Kodomo Baby Powder.
- Meril Baby Powder.
- Mamaearth Dusting Powder.
- Parachut Just for Baby.
ঘামাচির ঔষধ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই ঘামাচির প্রথম ঔষধ। ঘরোয়া কিছু উপায়ের মাধ্যমেও ঘামাচি দূর করা যায়। নিচে ঘামাচির কিছু কার্যকরী ঘরোয়া সমাধান এবং ঔষধের তালিকা দেয়া হলো।
ঘামাচির ঘরোয়া সমাধান
১। অ্যালোভেরা জেলঃ এলোভেরাতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান। যা ঘামাচির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে ঠান্ডা রাখে।
২। মুলতানি মাটিঃ মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ জল মিশে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর শুকিয়ে গেলে তা ধুয়ে ফেললে ঘামাচি থেকে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।
৩।নিম পাতাঃ নিম পাতা পেস্ট করে কিংবা পানিতে দিয়ে সিদ্ধ করে ব্যবহার করলে ঘামাচি দ্রুত শুকিয়ে দেয় এবং সংক্রমণ দূর করে দেয়।
৪। বরফ বা ঠান্ডা পানিঃ ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে কয়েকটি বরফের টুকরা সুতি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়।
ঘামাচির কার্যকরী ঔষধ
১। ক্যালামাইন লোশনঃ ক্যালামাইন লোশন ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং ঘামাচির জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে সহায়তা করে।
২। অ্যান্টিসেপটিক পাউডারঃ ঘামাচিতে আক্রান্ত স্থানে লাগালে আরাম পাওয়া যায়। তবে বেশি পরিমাণ ব্যবহার না করাই ভালো কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ঘামাচির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে ।
৩।আন্টি-হিস্টামিনঃ অতিরিক্ত চুলকানি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফেক্সওফেনাডিন বা সেটিরিজিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য
গরম আবহাওয়ার কারণে ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে ঘামাচি। যখন লোমকূপের মুখ যখন বন্ধ হয়ে শরীরের ঘাম বের হতে না পারে তখন শরীরে ঘামাচি হয়ে থাকে। এটি অনেক জ্বালাপোড়া করে এবং চুলকানি হয়ে থাকে। ঘরোয়া কিছু উপায় এর মাধ্যমে এই ঘামাচি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। উপরে তা আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া আমরা অনেকেই বিভিন্ন রকম পাউডার কিংবা ক্রিম ব্যবহার করে থাকি ঘামাচি সমস্যা সমাধানের জন্য কিন্তু অতিরিক্ত বা ভুল নিয়মে ব্যবহারের কারণে ঘামাচির পরিমাণ আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘামাচির পাউডার ব্যবহার কিংবা কোন ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url