১ ব্যাগ রক্ত দিতে কত সময় লাগে-রক্ত দেওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন
রক্তদান সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যেমন এক ব্যাগ রক্ত দিতে কত সময় লাগে,এক ব্যাগ রক্তের ওজন কত হয়,রক্তদানের উপকারিতা,রক্তদানের অপকারিতা,রক্তদানের আগে ও পরে কি খাওয়া উচিত, এ সকল বিষয়ে আপনার মনেও কি প্রশ্ন রয়েছে? এই আর্টিকেলটিতে এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও রক্ত দিলে ওজন বাড়ে কিনা, রক্ত নেওয়ার পর কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে এসব বিষয়েও জানা প্রয়োজন। প্রয়োজনের তাগিদে এসব বিষয়ে আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ভূমিকা
রক্ত মানুষের শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান।আর রক্ত দান মানুষের জীবন বাঁচানোর মত মহৎ কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত।আমাদের শরীরের স্বাভাবিকভাবে রক্ত উৎপাদন হয় এবং তা ক্ষয় হয়। এই প্রতিনিয়ত উৎপাদিত রক্ত থেকে কিছু পরিমাণ রক্ত অন্যদের দান করার মাধ্যমে আমরা একজনের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারি।রক্তদানের বিষয় নিয়ে আমাদের বেশিরভাগ এর মধ্যেই ভুল ধারণা বিদ্যমান।রক্ত দিলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে এমন ধারণা অনেকেই লালন করে থাকেন।কারণ রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। আবার অনেকের শুধু উপকারের লক্ষ্যে সঠিক ধারণা না রেখে অধিক পরিমাণে রক্ত দেওয়ার কারণে শরীরের যে ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা রাখেন না।আজকের এই আর্টিকেলে রক্ত দান সম্পর্কিত সকল বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আশা করি আর্টিকেলটি পড়লে রক্তদান সম্পর্কিত কোন বিষয় সম্পর্কে আপনার দ্বিধা থাকবে না।
১ ব্যাগ রক্ত দিতে কত সময় লাগে
রক্ত দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় বলা খুব কঠিন। কারণ এটি অনেকাংশে নির্ভর করে দাতার শরীরের অবস্থা ও রক্তের পরিমাণের ওপর। স্বাভাবিকভাবে এক ব্যাগ অর্থাৎ ৩৫০ থেকে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত পরিপূর্ণ হতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। রক্তদানের সামগ্রিক সময়কে ভাগ ভাগ করে বলতে গেলে-
- রক্তদান করার জন্য শুরুতে রক্তদাতার কিছু তথ্য (যেমনঃ নাম বয়স ঠিকানা পূর্ববর্তী রক্তদানের তারিখ রক্তের গ্রুপ) দিয়ে একটি ফরম পূরণ করতে হয়।যেটাতে ১ থেকে ২ মিনিট সময় লাগে।
- এর পরবর্তী সময়ে কর্তব্যরত নার্সের কাছে কাগজ জমা দেওয়া এবং তার সবকিছু ঠিক করে দেওয়া ও রক্তে ব্যাগ পরিপূর্ণ হতে ২০ মিনিট সময় লাগতে পারে।
- রক্তদানের পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। এই পর্যায়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া আবশ্যক না হলে মাথা ঘোরা সহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় রক্তদানের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে রক্ত দেওয়া শেষ করা পর্যন্ত প্রায় ৪০
থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
১ ব্যাগ রক্তের ওজন কত
রক্তের ওজন বেশিরভাগ সময় নির্ভর করে রক্তের ঘনত্ব ও এক ব্যাগে কি পরিমান রক্ত যাচ্ছে তার ওপর। রক্তের ওজন বের করার জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সূত্র ব্যবহার করতে পারি। যার মাধ্যমে রক্তের পরিমাণ জানা থাকলে সেটাকে আমরা গ্রাম ওজনে বের করে নিতে পারব।এর জন্য শুরুতে আমাদের রক্তের ঘনত্ব জানা জরুরী। রক্তের ঘনত্ব তুলনামূলক কম হলে ১.০৪৩ গ্রাম/ মিলি লিটার ও রক্তের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি হলে ১.০৬ গ্রাম/ মিলিলিটার হয়ে থাকে।
পরিমাণ জানা থাকলে ওজন নির্ণয়ের সূত্র-
ওজন = পরিমাণ * ঘনত্ব
সাধারণত এক ব্যাগ রক্ত ৩৫০ থেকে ৪৫০ মিলি লিটার হয়ে থাকে। এটি নির্ভর করে রক্তদাতা তার শরীরের অবস্থার ওপর। এক ব্যাগ রক্ত পরিপূর্ণ হলে তাতে ৪৫০ মিলি লিটার রক্ত থাকে। এর ওজনকে গ্রামের রূপান্তরিত করলে পাওয়া যায়,(৪৫০*১.০৬)= ৪৭৭ গ্রাম।শুধু রক্তের ব্যাগের ওজন ১০০ গ্রাম হলে ব্যাগ সহ রক্তের ওজন প্রায় ৫৮০ গ্রাম হয়ে থাকে।
মানুষের শরীরে কত ব্যাগ রক্ত থাকে
মানুষের শরীরের রক্তের পরিমাণ নির্দিষ্ট পরিমাণ হয় না। শরীরের গঠন ওজন ও লিঙ্গ ভেদে একেকজনের শরীরে এক এক পরিমাণে রক্ত থাকতে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ৪ থেকে ৬ লিটারের মধ্যে রক্ত থাকে।কারো শরীরের মোট ওজনের ৭ থেকে ৯ শতাংশ রক্ত শরীরে বিদ্যমান থাকে। এই শতকরা পরিমাণ কম বেশি হতে পারে শরীরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।কারো যদি রক্তশূন্যতা সমস্যা থাকে স্বাভাবিকভাবে তার শরীরের রক্তের পরিমাণ কম হবে।
নারীদের শরীরে রক্তের পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় কম হয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বাভাবিক নারীর দেহে ৪ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত রক্ত থাকে। অপরদিকে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দেহ ৫.৫ থেকে ৬ লিটার পর্যন্ত রক্ত থাকে।
আমরা পূর্বে জেনে এসেছি এক ব্যাগে সর্বোচ্চ রক্ত ধারন ক্ষমতা ৪৫০ মিলি লিটার। তাই লিটারের হিসাবটি ব্যাগে রূপান্তরিত করতে গেলে বোঝা যায় একজন স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ১০ থেকে ১২ ব্যাগ পর্যন্ত রক্ত থাকে।
রক্ত দেওয়ার উপকারিতা
আমাদের অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা কাজ করে যে রক্ত দান করলে বুঝি শরীরের কোন ক্ষতি হতে পারে। এটি সম্পূর্ণরূপে আমাদের ভুল ধারণার প্রতিফলন। রক্ত দান করলে ক্ষতি তো হয় না বরং এর উপকারসমূহ জানলে আপনিও রক্ত দিতে আগ্রহী হবেন। চলুন রক্ত দান করলে রোগীর পাশাপাশি আপনার কি কি উপকার হতে পারে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
১। শরীরের সক্রিয়তা বজায় রাখাঃ রক্ত উৎপাদন একটি চলমান প্রক্রিয়া। নিয়মিত রক্তদান করলে পুরাতন রক্ত সহজে শরীর থেকে বের হয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবার নতুন রক্ত উৎপাদন শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেলে। যে কোন দুর্ঘটনার সময় শরীরের কোন ক্ষতি হলে দ্রুত তা পূরণ করতে পারে।
২। হৃদপিন্ড সুস্থ রাখাঃ পুরাতন রক্ত ঠিকমতো শরীর থেকে নিষ্কাশন হতে না পারলে সেগুলো জমাট বাধার প্রবণতা বেশি থাকে এর ফলে হার্ট অ্যাটাক এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত রক্তদান করলে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি থাকে না। যার ফলে রক্ত চলাচলও সচল থাকে ও হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে।
৩। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়েঃ পুরাতন রক্তের সাথে পুরাতন শরীর প্রতিরক্ষা কোষ ও পরিবর্তিত হয়ে নতুন ও শক্তিশালী কোষের আবির্ভাবের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৪। নিজের রোগ সম্পর্কে জানাঃ রক্তদানের সময় রক্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে নিজ দেহে কোন গোপন রোগ আছে কিনা সেই সম্পর্কে জানতে পারি।
৫। ওজন হ্রাসঃ প্রতিবার রক্তদানে আমাদের শরীর থেকে ক্যালরি বার্ন হয় এর পরিমাণ প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ পর্যন্ত হয়। তাই এটি ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী।
৬। ধর্মীয় দিক থেকে উপকারঃ প্রতিটি ধর্মেই মানুষের জীবন বাঁচানো একটি মহৎ পূণ্যের কাজ। তাই রক্তদানের মাধ্যমে ইহকালের সাথে পরকালেও পুরস্কার পাওয়া যায়।
৭। মানসিক শান্তিঃ মানুষের জীবন বাঁচানোর থেকে প্রশান্তির কিছু এ পৃথিবীতে খুব কম আছে।মানুষের উপকারের মাধ্যমে মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
রক্ত দানের অপকারিতা
আমাদের অনেকের মধ্যেই মানুষের উপকার করার আগ্রহ এতটাই বেশি যে আমরা সবসময় ওই রক্তদানের জন্য উৎসাহী হয়ে থাকি। কিন্তু মনে রাখতে হবে সব ভালো কাজই সঠিক নিয়ম মেনে না করলে তার ক্ষতিকর দিক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তদানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। পরিণত বয়স হওয়ার আগে অথবা শরীরের অবস্থার তুলনায় বেশি রক্তদান করে ফেললে শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই এর অপকারিতার দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরী।
১। রক্তশূন্যতাঃ যাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ এমনিতেই কম অর্থাৎ হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ পুরুষদের ক্ষেত্রে ১২ এর নিচে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৩ এর নিচে তারা যদি রক্ত দেয় তাহলে তাদের রক্তশূন্যতার পরিমাণ আরো বেড়ে যেতে পারে।
২। ইনজেকশনের জায়গায় ইনফেকশনঃ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অদক্ষ লোকের থেকে রক্তদানের জন্য ব্যবহৃত সুচ দিয়ে নিলে সে জায়গায় ইনফেকশন তৈরি হতে পারে এবং জায়গাটা ফুলে যেতে পারে।
৩। সাময়িক মাথা ঘোরা ও বমনঃ হঠাৎ শরীর থেকে অধিক পরিমাণে রক্ত বের হয়ে গেলে রক্তের চাপ তুলনামূলক কমে যেতে পারে সেজন্য হালকা বমি ভাব সাথে মাথা ঘোরাও হতে পারে। তরল জাতীয় খাবার এবং কিছুটা বিশ্রাম নিলে যদিও এটি সহজে সেরে ওঠে।
৪। মেরুরজ্জুর কার্যকারিতা হারানোঃ অপরিণত বয়সে রক্ত দিলে মেরুরজ্জু তার কার্যকারিতা হারাতে পারে, এক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে রক্ত উৎপাদনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।
রক্ত দিলে কি ওজন বাড়ে
রক্তদান শরীর থেকে ক্যালরি বার্ন করার একটি প্রক্রিয়া। রক্ত শরীর থেকে বের হওয়ার সময় প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ক্যালোরি পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে। তাই রক্ত দিলে ওজন বাড়ার তো সম্ভাবনা থাকেই না উল্টো ক্যালোরি খরচ হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত রক্তদান করলে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। অনেকেই মনে করে থাকে রক্ত দেওয়ার পরে পুনরায় রক্ত উৎপাদন হওয়ার ক্ষেত্রে ওজন হয়তো বেশি বেড়ে যায় কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপ একটি ভুল ধারণা।
তবে রক্তদানের পর সাময়িক দুর্বলতা কাটানোর জন্য অনেকেই অধিক পরিমাণে ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে থাকে। এটি কারো করার কারণে ওজন বাড়তে পারে। রক্তদানের পর পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল ও ভিটামিন যুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ। বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার সব সময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
রক্ত দেওয়ার আগে কি খাওয়া উচিত
রক্তদানের ক্ষেত্রে খাবারের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত দেওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হলেও একই সময়ে অধিক পরিমাণে রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে শরীরে সাময়িক ভিটামিন, আইরন ও তরল পদার্থের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক রক্ত দেওয়ার আগে কি কি খাওয়া উচিত।
১। তরল পদার্থঃ রক্ত যেহেতু শরীরের তরল পদার্থ সমূহের ভারসাম্য রক্ষা করে,সেজন্য রক্ত দেওয়ার আগে অবশ্যই তরল জাতীয় পদার্থ বেশি খেতে হবে। যেমনঃ রক্ত দেওয়ার ২৪ ঘন্টা আগে স্বাভাবিকদের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গ্লাস পানি বেশি খেতে হবে। তরলের সাথে সাথে ভিটামিন ও আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে রক্তদানের ১ থেকে ৩ ঘন্টা আগে টাটকা ফলের রস খেতে হবে।
২। ফলমূলঃ বিভিন্ন ভিটামিন যুক্ত ফলমূল ফলের রস অপেক্ষা বেশি উত্তম। কারণ এতে সরাসরি শরীরে অধিক পরিমাণে চিনি যোগ করে না। তাই ফলমূলের বদলে তিন থেকে চার ঘন্টা আগে ফল খাওয়া যেতে পারে।
৩। শাকসবজিঃ রক্তদানের মাধ্যমে শরীর থেকে অধিক পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন নিঃসরিত হয়। তাই রক্তদানের একদিন আগেই থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি পরিমাণে শাক ও সবজি খাওয়া উচিত।
৪। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ শরীরের জন্য উপকারী প্রোটিন গুলো ( যেমন চীনা বাদাম, মুরগির মাংস, মটরশুটি, ওটস ইত্যাদি) বেশি বেশি খেতে হবে একদিন আগে থেকে।
রক্ত দেওয়ার আগে যেসব খাবার খাওয়া উচিত নয়
রক্তদানের কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ তরল নিঃসরিত হয়, তাই শরীর থেকে পানি নিঃসরণ করে এমন উত্তেজক পদার্থ হওয়া উচিত নয়। এক্ষেত্রে চা, কফি,অ্যালকোহল ও অ্যালকোহল মিশ্রিত কমল পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
এছাড়াও তামাক ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য রক্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে যার কারণে রক্তদাতা ও যিনি রক্ত গ্রহণ করছেন উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে তাই এসব খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত
রক্তদানের পর স্বাভাবিকভাবেই শরীর থেকে অধিক পরিমাণ তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষাকারী তরল পদার্থ নিঃসরিত হয়ে যাবে। শুধু তাই নয় এর সাথে সাথে অনেক পরিমাণে ভিটামিন ও আয়রনের বের হয়ে যাবে। এসবের ঘাটতি পূরণ করার জন্য সঠিক খাবার শরীরে দেওয়া প্রয়োজন। রক্তদানের পর কি কি খাবার খাওয়া সবচেয়ে কার্যকর চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১। তরলের ঘাটতি পূরণ করে এমন খাবারঃ বিভিন্ন আয়রনযুক্ত ফলের রস এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ডাবের পানি খেতে পারেন। ডাবের পানি আপনার শরীরে আয়রন ও পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে অতি দ্রুত।
২। রক্তের ঘাটতি পূরণ করে এমন ফলমূলঃ রক্তদানের পর শরীরের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ভিটামিন ,আয়রন এছাড়া অন্যান্য খনিজ পদার্থ। এসবের ঘাটতি পূরণ করতে পারে সঠিক ফলমূল। ডালিম, বেদেনা,কমলা,পেয়ারা,ড্রাগন,বিটরুট ইত্যাদি।
৩। শাকসবজিঃ রক্ত দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে থেকে আবার পুনরায় রক্ত উৎপাদন হতে শুরু করে। এই সময়ের সবচেয়ে কার্যকরী হল অনেক পরিমাণ সবুজ শাকসবজি খাওয়া। এগুলো শরীরের বিভিন্ন খনিজ পদার্থের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে।
৪। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ রক্তদানের আগে যেমন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরে শক্তি যোগান রাখে তেমনি রক্তদানের পরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রোটিন গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। তাই রক্তদানের পরে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন রাখতে হবে। শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে মুরগির মাংস, বাদাম ,দুধ,ডিম,মটর,বুটের ডাল ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।
৫।খাবার স্যালাইনঃ শরীরের যদি অধিক পরিমাণে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে খাবার স্যালাইন খেতে হবে।
৬। গ্লুকোজঃ রক্তদানের ফলে শরীরে সাময়িক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে যার কারণে মাথা ঘুরাতে পারে। শরীরে শক্তি ফিরে আনার জন্য তাৎক্ষণিক গ্লুকোজ সেবন করা যেতে পারে।
রক্ত নেওয়ার পর কি কি সমস্যা হতে পারে
রক্ত নেওয়ার পর শরীরে বিভিন্ন রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। রক্তের গ্রুপ একই ধরনের হলেও রক্তের অন্যান্য উপাদান ও গঠন পুরোপুরি রক্ত গ্রহীতার অনুরূপ হয় না। যার ফলে নানা রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। রক্ত দেওয়ার পর কি কি সমস্যা হতে পারে চলুন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
১। শ্বাসকষ্ট ও জ্বরঃ রক্ত শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। একসাথে রক্ত প্রবেশ করানো হলে রক্ত গ্রহীতার শরীরে ঠান্ডা লাগার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে ও হালকা জ্বর আসতে পারে। রক্ত দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন রক্ত স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে এসে তারপর দেওয়া হয়।
২। এলার্জি সমস্যাঃ অনেক রক্ত গ্রহীতার ক্ষেত্রে বাইরে থেকে অন্যের রক্ত প্রবেশ করানো হলে শরীরের সাথে সমন্বয় করতে সমস্যা হয়। যার ফলে শরীরে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩। জটিল রোগের আবির্ভাবঃ দানকৃত রক্তের পরীক্ষণ ভালো ভাবে না করা হলে এর মাধ্যমে জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে। যেমনঃ হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি।তাই রক্ত গ্রহণ করার সময় অবশ্যই ভালো কোন ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নিতে হবে।
৪। হার্ট ফেলিওরঃ অসতর্কতা বসত রক্ত গ্রহীতা কে অতি দ্রুততার সাথে অধিক পরিমাণে রক্ত দেওয়া হলে, রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং হার্ট ফেলিওর ও হতে পারে।
মন্তব্য
রক্ত দান করা একটি সামাজিক কল্যাণ ও মানবিক দিক থেকে সর্বোচ্চ মর্যাদার একটি কাজ। মানুষের জীবন বাঁচাতে এর রক্তদান যেমন অন্যের জন্য কল্যাণকর তেমনি নিজের জন্য অনেক উপকারী। এতে করে সামাজিক মর্যাদা সাথে নিজেরও আত্মিক উন্নয়ন ঘটে।আমাদের সকলের উচিত মূল্যবান এই রক্তদান করে একজনের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা। কিন্তু তার আগে অবশ্যই নিজের রক্তদানের জন্য উপযোগী কিনা সেটি যাচাই করে নিতে হবে। কারণ অতি উৎসাহী হয়ে অনুপযুক্ত হওয়ার পরেও রক্তদান নিজের ও রক্ত গ্রহীতার ক্ষতিটি আনতে পারে।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url