ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত জেনে নিন
আপনি কি ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে জানতে চাচ্ছেন? ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কিসের লক্ষণ,বন্ধের উপায় ও বন্ধ করার ঔষধ সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত লিখা হয়েছে।তাই এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পড়ুন।
ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।সব সময় ওষুধ না খেয়ে কি করলে বন্ধ হবে এবং ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করার ব্যায়াম সম্পর্কে জানার জন্য আর্টিকেলে বর্ণিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন।
ভূমিকা
প্রস্রাব মানব জীবনের একটি প্রাকৃতিক সাধারণ বিষয়। এর সাথে এটি এক শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থসমূহ বের হয়ে যায়। কিন্তু যখন এটি ঘন ঘন হতে থাকে তখন একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয় যা অস্বাস্থ্যকর বটে। ঘনঘন প্রস্রাব বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। এটি সাধারণ কোন শারীরিক প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটা থেকে শুরু করে জটিল ও কঠিন রোগের উপসর্গ হিসেবে হতে পারে। ঘনঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনের কাজ ব্যাহত হয় ও শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা বিভিন্ন ঔষধের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে আমার জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন ও নির্দিষ্ট ব্যায়াম করার মাধ্যমেও সমাধান করা যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘন ঘন প্রস্রাব হলে করণীয় গুলো কি কি হবে।
ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত
১। যথেষ্ট পরিমাণ পানি পানঃ প্রসব সরাসরি পানি খাওয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত।একজন মানুষের প্রতিদিন তার ওজনের প্রতি ৬ কেজির জন্য একগ্লাস করে পানি পান করা উচিত। ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষের জন্য ১০ গ্লাস পানি অর্থাৎ ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। শরীরের পানি নির্গমন এর উপর ভিত্তি করে এর মাত্রা কম বেশি হতে পারে।
২। মূত্রাশয়ের জন্য ভালো সবজি সমূহঃ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুত্রাসয়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে এবং ক্যান্সার কোষ থেকে রক্ষা করে। এন্ড এক্সিডেন্টের জন্য ভালো সবজি সমূহ হচ্ছে গাজর,ফুলকপি,ব্রকলি,কেলি ইত্যাদি। এছাড়াও আমরা সবাই প্রদাহ রোধ করার জন্য বিট রুট অনেক কার্যকরী।
৩। পেঁয়াজ রসুনঃ সবজিগুলোর পাশাপাশি পেঁয়াজ রসুনেও অধিক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা মূত্রথলিকে ক্যান্সার কোষ থেকে পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে।
৪। পানিযুক্ত ফলঃ মূত্রাশয়ভালো রাখার জন্য অধিক পানিযুক্ত ফল খাওয়া বেশি কার্যকর যেমনঃ শসা তরমুজ ইত্যাদি। এর পাশাপাশি যেগুলোতে অধিক পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে সেই ফলগুলো খাওয়াও অনেক কার্যকর।
৫। আমলকিঃ প্রস্রাবের মধ্যে ভারসাম্যতা বজায় রাখা এবং মূত্রথলি স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আমলকির কোন বিকল্প নেই। শুকনা আমলকি পানিতে ভিজিয়ে রেখে এসে পানি অথবা কাঁচা আমলকি চিবিয়ে তারপর পানি খাওয়া ঘন ঘন প্রস্রাবের ক্ষেত্রে অনেক কার্যকর।
৬। জিরা পানি ও আদাঃ জিরা ও আদার নিজস্ব এন্টিবায়োটিক গুন থাকার কারণে এগুলো খাওয়া ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য অনেক কার্যকরী। জিরা এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেতে হবে। পানি সামান্য গরম করে সেটাতে আদার রস মিশিয়ে খেতে হবে।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ
সাধারণভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শরীর তাকে ক্ষতিকর দিক হিসেবে বিবেচনা করে।তখন অতিরিক্ত শর্করা মুত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে চায়। তাই বারবার প্রস্রাবের বেগ চাপে। সাধারণভাবে এটি একটি কারণ হলেও অন্যান্য আরো জটিল সমস্যার কারণ হিসেবে ঘনঘন প্রস্রাব হতে পারে। চলুন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
১। মূত্রাশয় ইনফেকশনঃ শরীরের বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ কিডনির মাধ্যমে মুত্রাশয় এসে জমা হয়।এখানে ইনফেকশন থাকলে মূত্রথলি প্রস্রাব বেশীক্ষণ ধরে রাখতে পারেনা। যার ফল স্বরূপ ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পায়।
২। ডায়াবেটিসঃ সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকলে সেটিকে ডায়াবেটিস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর শুরুতেই বলা হয়েছে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে শরীর সেটিকে ক্ষতি স্বরূপ বিবেচনা করে। তার ফলে বারবার শরীর থেকে সেগুলো পানির সাথে বের করে দিতে চায়। এই কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।
৩। কিডনির অকার্যকারিতাঃ কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে ঠিকমতো শরীরের বর্জ্য পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ও সময়মতো নিষ্কাশন করতে পারে না। যার কারণে ঘন ঘন প্রসব হতে পারে।
৪। ব্রেন স্ট্রোকঃ ব্রেন স্ট্রোকের কারণে মাথায় রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে যার কারণে মস্তিষ্ক ঠিকমত কিডনিতে সিগন্যাল পাঠাতে পারে না। আর কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় প্রস্রাবের সময় সীমাও ঠিক থাকে না।
৫। মূত্রথলির আকার হ্রাসঃ মূত্রথলির আকার হ্রাস পেলে সামান্য একটু প্রস্রাবের বেগ পেলে মনে হয় মূত্রথলী পূর্ণ হয়ে গেছে। তখন বারবার প্রসব করার প্রয়োজন পড়ে।
৬। ঔষধ এর প্রভাবঃ বিভিন্ন ধরনের ঔষধের কারণে মস্তিষ্ক অনেক সময় কিডনিতে ঠিকমতো সিগন্যাল পাঠাতে ব্যর্থ হয় যার ফল স্বরূপ ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
৭। মূত্রথলিতে চাপঃ কেউ যদি দীর্ঘ সময় এমন ভাবে থাকে যে তার মূত্রথলিতে চাপ পড়ছে প্রতিনিয়ত তাহলে সে ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা মূত্রথলির ওপর চাপ পড়ে এমন ভাবে সব সময় বসে থেকে কাজ করে ও গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এর প্রবণতা বেশি দেখা দেয়।
৮। বিভিন্ন ধরনের উত্তেজক পদার্থ বেশি সেবনঃ ক্যাফেন যুক্ত চা ও কফি, অ্যালকোহল দ্রব্য (যেমনঃমদ), অধিক পরিমাণে চকলেট ইত্যাদি সেবনের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
৯। অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের কারণেঃ যাদের এসিডিটির সমস্যা বা আইবিএস এর সমস্যা রয়েছে তাদের এসিড অনিয়ন্ত্রিতভাবে নিঃসরণ হয়। পেটে এসিডের ভারসাম্য রক্ষা করতে শরীর থেকে পানি নির্গত হয়।যা পরবর্তীতে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়। এই কারণে ঘনঘন প্রস্রাব হতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি করব
প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ বার প্রস্রাব হওয়া শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে। কিন্তু যখন এটি প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ বারের বেশি হতে শুরু করে তখন আর স্বাভাবিক হিসেবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।ঘনঘন প্রস্রাব যেহেতু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু স্বভাবের জন্য হতে পারে তাই শুরুতেই বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই।ঘন ঘন প্রস্রাবের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা শুরু করতে হবে, পানিযুক্ত ফলমূল এবং আঁশ ও অধিক ভিটামিন যুক্ত শাকসবজি খাওয়া শুরু করতে হবে।এর সাথে সামান্য ইনফেকশন দূর করার জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক গুণসম্পন্ন বিটরুট,আদা ও জিরা পানি খাওয়া শুরু করতে হবে।
সতর্কতাঃ অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এটি বড় কোন অসুখের লক্ষণ হতে পারে। তাই যদি অস্বাভাবিকভাবে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে শুরু করে এবং তার সাথে জ্বালাপোড়া হয় তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব ।
ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করার উপায়
১।আমলকি খাওয়াঃ আমলকিতে কমলা ও লেবুর তুলনায় প্রায় ৩ থেকে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন-সি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট যা প্রদাহ নিরাময় ও ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতেও কার্যকরী। তাই আমলকি ভেজানো পানি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়।
২। তুলসী পাতার রস খাওয়াঃ তুলসী পাতাতেও আমলকির মতন প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন- সি,এ,কে ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা মূত্রথলিতে ইনফেকশন থাকলে সেটি দূর করে ঘনঘন প্রস্রাব কমিয়ে নিয়ে আসে।তুলসী পাতার সাথে মধু মিশিয়ে খেলে এটি আরো অধিক কার্যকরী হয়।
৩। আতপ চাল ভেজানো পানিঃ আতপ চাল ভিজিয়ে রাখা পানিতে ফেনোলিক ও ফ্যাভনয়েড নামক দুইটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্যান্সার কোষ থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমিয়ে নিয়ে আসে। তাই আতপ চাল ভেজানো পানি খেলে ঘনঘন প্রসব সমস্যা দূর হয়।
৪। অভ্যাসঃ অনেক সময় সমস্যা না থাকলেও ঘনঘন প্রস্রাব করা অভ্যাসের কারণ হয়ে ওঠে। তাই প্রস্রাব লাগলেও কিছুক্ষণ দেরিতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কিন্তু অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে না রাখা হয়।কারণ বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে কিডনির সমস্যা হয়।
৫। ঘুমানোর পূর্বে পানি পান না করাঃ ঘুমানোর ঠিক আগে পানি পান করার অভ্যাস ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা পূর্বে পানি খাওয়া শেষ করতে হবে।
৬। ব্যায়াম করাঃ প্রোস্টেট ও মূত্রথলির সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে তাহলে ঘন ঘন প্রস্রাবে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
৭। ঔষধ সেবনঃ ঘরোয়া সকল উপায়ে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দূর করা না গেলে ডাক্তারের পরামর্শে কিছু ঔষধ সেবন করা যেতে পারে।
মেয়েদের ঘন ঘন প্রস্রাব কিসের লক্ষণ
স্বাভাবিকভাবে পুরুষদের যেমন পাঁচ থেকে ছয় বার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। সেরকমভাবে মেয়েদের ক্ষেত্রেও এটাই প্রস্রাব হওয়ার স্বাভাবিক মাত্রা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটার মাত্রা বাড়তে পারে। সেই সমস্যা গুলো জীবন ধারার পরিবর্তনের কারণে হতে পারে আবার জটিল কিছু সমস্যার লক্ষণ হিসেবেও হতে পারে।সেজন্য এ বিষয়ে সঠিক ধারনা রাখা অত্যন্ত জরুরী।
ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করার ঔষধ
ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করতে মূত্রাশয় শিথিল করার ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কোনো ঔষধই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাওয়া উচিত নয়। সাধারণত ঘন ঘন প্রসাব বন্ধ করতে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা নিচে দেওয়া হলোঃ
১। সলিফেনাসিনঃ সলিফেনাসিন এমন একটি ওষুধ যা অতি সক্রিয় মূত্রাশয়ের পেশি শিথিল করে এবং ঘনঘন প্রস্রাব বন্ধ করতে সাহায্য করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত এই ওষুধটি সেবন করলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
২। টলটেরোডিনঃ এটি এমন একটি ওষুধ যা মাত্রাশয় এর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। যাদের তীব্র প্রসাবের বেগ পাই এবং প্রসব ধরে রাখতে অসুবিধা হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত এই ওষুধটি খাওয়া একদম উচিত নাই বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচে কেউ যেন এই ওষুধটি না খায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এই ওষুধটি খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, দৃষ্টি ঝাপসা এবং মাথা ঘোরার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩। মিরাবেগ্রনঃ এটি এমন একটি ওষুধ যা ওভার একটিভ ব্লাডার এর চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত মত্রপেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। প্রস্রাবের তীব্র বেগ, অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব ধরা এবং ঘনঘন প্রস্রাব এর চিকিৎসায় এ ওষুধটি ব্যবহার করা হয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত ঔষধটি সেবন করা একদম উচিত নয়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথা ব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার ব্যায়াম
ঘন ঘন প্রস্রাব বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে প্রসাব বের হওয়ার সমস্যা দূর করার জন্য কেগেল ব্যায়াম করা হয়। এই ব্যায়াম করার ফলে তলপেটের নিচের বেশি গুলো শক্তিশালী হয় এবং প্রসাব ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিচে ব্যায়াম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলোঃ
১। প্রস্রাব করার সময় প্রসবের মাঝপথে প্রস্রাব থামানোর জন্য চেষ্টা করলে যে পেশিটি সংকুচিত হয় সেটি মূলত পেলভিক ফ্লোর পেশি।
২। এই ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে শুয়ে বা বসে চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড এর জন্য পেশিগুলো টেনে ধরে রাখুন।
৩। এরপর আবার চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড বেশিগুলো ছেড়ে দিন বা শিথিল করে রাখুন।
৪। এইভাবে টানা ১০ থেকে বার বার একই কাজ করুন। আরে ব্যামটি দিনে কমপক্ষে তিন বার করুন ।
৫। এই ব্যায়াম করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন এবং পেট বা উরুর পেশিগুলো শক্ত করা যাবে না।
সতর্কতাঃ উপরে যে ব্যায়ামটির কথা বলা হয়েছে এটি মূলত বেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ঘন ঘন প্রস্রাব যদি কারো সাধারণ সমস্যার হয়ে থাকে তাহলে এই ব্যায়ামের মাধ্যমে সেরে যেতে পারে। তবে এই ব্যায়ামটি পরিপূর্ণ সমাধান নয়। তাই কারো যদি ঘনঘন প্রস্রাব হয় তাহলে অবশ্যই ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করার হোমিও ঔষধ
ঘনঘন প্রস্রাব বন্ধ করার জন্য হোমিও ঔষধ খুবই কার্যকরী চিকিৎসা। তবে হোমিও ঔষধ খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত সেবন বা ভুল ওষুধ সেবনে সমস্যাগুলো বাড়তে পারে। ঘনঘন প্রস্রাব বন্ধ করার জন্য যেসব হোমিও ঔষধ ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ
১। ক্যান্থারিস ৩০/২০০ঃ এই ওষুধটি সাধারণত ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া এবং অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া ইত্যাদি সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
২। কষ্টিকাম ২০০ঃ এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি হোমিও ঔষধ। এটি সাধারণত স্নায়ুবিক দুর্বলতা এবং প্রসাব জনিত সমস্যায় ব্যবহার করা হয়।
৩। লাইকোপোডিয়াম ৩০/২০০ঃ এটি মূলত পেটের সমস্যা, লিভার, কিডনি এবং প্রসাব জনিত সমস্যায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
সতর্কতাঃ ওপরে যে ওষুধগুলোর নাম বলা হয়েছে এই হোমিও ঔষধগুলো ঘন ঘন প্রসাব রোধে ব্যবহার
করা হয়। তবে নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক এর পরামর্শ ব্যতীত এই ঔষধ গুলো সেবন করা একদম উচিত নয়।
মন্তব্য
এই আর্টিকেলে থাকা সকল তথ্য গবেষণার উপর ভিত্তি করে লেখা। তাই কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যগুলো চিকিৎসকের পরামর্শের সাথে নাও মিলতে পারে। তবে যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আপনি আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। ঘন ঘন প্রস্রাব সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের প্রশ্ন করতে পারেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url