নফল রোজা রাখার উত্তম দিন সম্পর্কে জানুন

আপনি কি নফল রোজার উত্তম দিন সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য। নফল রোজা একটি উত্তম ইবাদত। তবে বছরের কোন কোন দিন নফল রোজা রাখতে হয় সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। নফল রোজার উত্তম দিন সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন।
এই আর্টিকেলটিতে নফল রোজা রাখার নিয়ম, উত্তম দিন, নিয়ত, ফজিলত ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে। নফল রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ভূমিকা

বছরের বিশেষ কিছু দিন বাদ দিয়ে সারা বছরই নফল রোজা রাখা যায়। তবে নফল রোজার জন্য বিশেষ কিছুদিন রয়েছে যে দিনগুলোতে রোজা রাখলে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। আমরা অনেকেই ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নফল ইবাদত করতে চাই। আর নফল রোজার চাইতে উত্তম নফল ইবাদত আর কিবা হতে পারে। নফল রোজার জন্য সাপ্তাহিক এবং মাসিক কিছু উত্তম দিন রয়েছে। যে দিনগুলোতে রোজা রাখলে সওয়াব দ্বিগুণ হয়ে যায়। আশা করি আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে নফল রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

নফল রোজা রাখার উত্তম দিন

নফল রোজা রাখার জন্য উত্তম বেশ কিছুদিন রয়েছে। যে দিনগুলোতে রোজা রোজা রাখলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। নিচে নফল রোজা রাখার উত্তম দিনগুলোর মধ্যে কিছুদিনের তালিকা দেওয়া হলো।

১। প্রতি সপ্তাহে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখার জন্য উত্তম দিন। কারণ এই দুইদিন সাপ্তাহিক আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়।

২। প্রতিমাসে তিন দিন নফল রোজা রাখা উত্তম। কারণ প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখলে পুরো মাসে রোজা রাখার সব পাওয়া যায়।

৩। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনে নফল রোজা রাখা যায়। তবে এই রোজা হজ পালনকারীদের উপর আবশ্যক নয়। হজ পালনকারী ব্যতীত বাকিরা এই রোজাটি রাখতে পারে।

৪। মহররম মাসের ৯ তারিখ এবং ১০ তারিখ নফল রোজা রাখা যেতে পারে। এই রোজাকে আশুরার রোজা বলা হয়।

৫। ঈদুল ফিতরের পরের মাস অর্থাৎ রমজান মাসের পরের মাস হচ্ছে শাওয়াল মাস। আর এই মাসে ৬ টি নফল রোজা রাখলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।

৬। শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা যায়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।

নফল রোজা রাখার নিয়ম

নফল রোজা এবং ফরজ রোজার মধ্যে বিশেষ তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে নফল রোজার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলো তরফ করলেও খুব একটা সমস্যা হয় না। যেমন নফল রোজার ক্ষেত্রে সেহরি করাটা আবশ্যক নয়। নফল রোজা রাখার বিস্তারিত নিয়ম নিচে দেওয়া হলো।

১। নফল রোজার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় যে পার্থক্যটি রয়েছে সেটি হচ্ছে নিয়ত। নফল রোজার ক্ষেত্রে মৌখিক নিয়ত করার প্রয়োজন নেই। মনে মনে নিয়ত করলেই নিয়ত হয়ে যায়।

২। নফল রোজার ক্ষেত্রে রাতে অথবা সেহরির সময় নিয়ত করা উত্তম। তবে কোন কারণে নিয়ত করতে ভুলে গেলে দিনের বেলাতে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যায়।

৩। সেহরি খাওয়ার সুন্নত, তবে নফল রোজার ক্ষেত্রে সেহেরী খেতে না পারলেও রোজা হয়ে যায়।

৪। রোজা রাখা অবস্থায় গিবত, মিথ্যা বলা, যৌন ক্রিয়াকলাপ ও কোন কিছু গিলে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫। দুই ঈদের দিন এবং ঈদুল আজাহার পরের ৩ দিন রোজা রাখা হারাম। এই ৫ দিন রোজা রাখা যাবে না।

সাপ্তাহিক নফল রোজা

সপ্তাহে বিশেষ কিছুদিন রোজা রাখলে সুন্নত এবং অত্যন্ত বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। বিশেষ করে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখলে এই রোজা সুন্নাতের কাতারে পড়ে এবং অত্যাধিক সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম নিয়মিত সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। নিচে সাপ্তাহিক নফল রোজার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো।

১। প্রতি সপ্তাহের সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখার এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হচ্ছে এই দুইদিন আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। আর রোজা রাখা অবস্থায় আমলনামা পেশ করলে আল্লাহর কাছে আমলনামাটি পছন্দনীয় হয়।

২। সোমবার দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং এই দিনেই তার ওপর কোরআন মাজীদ নাযিল হয়েছিল। তাই এই দিনটি নফল রোজা রাখার জন্য উত্তম একটি দিন।

৩। প্রতি সপ্তাহে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা গুলো খুলে দেওয়া হয়। তাই সপ্তাহে এই দুইদিন নফল রোজা রাখার জন্য উত্তম।

৪। নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে রাখতে হবে এরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এক সপ্তাহ রোজা রাখতে না পারলেও পারের সপ্তাহে নফল রোজা রাখা যায়। তবে নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে রোজা রাখতে পারলে সওয়াব বেশি হয়।

নফল রোজা রাখার নিয়ত

নফল রোজা রাখার জন্য নিয়ত আরবিতে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। নফল রোজা রাখার জন্য অন্তরের ইচ্ছা থাকাটা সবথেকে জরুরী। তবে নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে সেহরির পূর্বে অথবা আগের রাতে নিয়ত করা উচিত। তবে কোনো কারণে সেহেরি করতে না পারলে বা অন্য যেকোনো কারণে নিয়ত করতে না পারলে দুপুরের পূর্বেই নিয়ত করা যায়। যেহেতু সেহেরী খাওয়ার সুন্নত তাই সেহেরী খেয়ে তারপর নিয়ত করা উচিত। নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে আরবিতে যে নিয়ত করা হয় তার উচ্চারণটি নিচে দেওয়া হলোঃ

“ নাওয়াইতু আন আসমা গদান লিল্লাহি তা’আলা মিন নাফলি সাওম।”

নফল রোজা রাখার নিয়ত বাংলায়

নফল রোজা রাখার জন্য মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়। তবে কেউ যদি মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করতে চাই সেটিও জায়েজ আছে। তবে কেউ যদি মনে মনে বলে আল্লাহ আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামীকাল নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম। তাহলে তার নফল রোজার নিয়ত হয়ে যায়। তবে কেউ যদি আরবি নিয়তের বাংলা উচ্চারণ করতে চাই, তাহলে তাকে আরবীর বাংলা অনুবাদ করতে হবে। নফল রোজা রাখার জন্য রাতে অথবা দিনে দুপুরের পূর্বে পানাহার করে না থাকলে এর মধ্যে যেকোনো সময় নিয়ত করতে পারে। নিচে আরবি নিয়তের বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলোঃ

“ আমি আল্লাহর জন্য আগামীকাল নফল রোজা রাখার নিয়ত করছি।”

নফল রোজার সেহরি খাওয়ার সময়

নফল রোজা আর ফরজ রোজা সেহরি খাওয়ার সময় একই। তবে নফল রোজার খেতে সেহরি না করলেও রোজা রাখা যায়। সেহরি খাওয়ার উত্তম সময় সুবহে সাদিক এর পূর্বে। অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই সেহেরি করা উত্তম। নফল রোজার সেহরি খাওয়ার সময় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত বলা হলো।

১। নফল রোজার ক্ষেত্রে সেহরি করার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে রাতের শেষ অংশে অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে।

২। মোয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সাথে সাথেই সেহেরির সময় শেষ হয়ে যায় অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলেই সেহরির সময় শেষ হয়।

৩। ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে অর্থাৎ মুয়াজ্জেন আযান দিলে আর কোন কিছু খাওয়া বা পান করা যাবে না। যদি কেউ আযান দেওয়ার পরেও কোন কিছু খান তাহলে নফল রোজাটি আর কার্যকর হবে না।

৪। যেহেতু সেহেরি খাওয়ার সুন্নত তাই কেউ সেহেরী না খেয়েও যদি রোজার নিয়ত করেন তাহলে রোজা হয়ে যাবে। তবে সেহরি খাওয়া উত্তম।

সপ্তাহে কোন দিন রোজা রাখা নিষেধ

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর এমন কোন হাদিস নেই যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সপ্তাহের কোন দিনকে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। তবে জুম্মার দিন অর্থাৎ শুক্রবার এককভাবে রোজা রাখাকে মাক্রুহ বলা হয়। তবে শুক্রবার এর আগে বৃহস্পতিবার-শুক্রবার অথবা বৃহস্পতিবারের পরে শুক্রবার-শনিবার রোজা রাখা কে ইসলামের জায়েজ বলা আছে।

অনেক আলেম উলেমাদের মতে শুধু শনিবারে রোজা রাখাও মাকরুহ। কেননা ইহুদীরা শুধু শনিবারে রোজা রাখে। তাই ইহুদিদের অনুকরণ এড়াতে চাইলে শুক্রবার শনিবার রোজা রাখাই উত্তম। আবার অনেক আলেমদের মতে রবিবারে রোজা রাখাও মাকরুম। কারণ খ্রিস্টানরা রবিবারকে পবিত্র দিন মনে করে। তাই কেউ রবিবারে রোজা রাখতে চাইলে আগের দিন অথবা পরের দিন মিলিয়ে রোজা রাখবেন। তবে কেউ যদি প্রতিদিন রোজা রাখতে চান সেটা ইসলামে জায়েজ আছে। একদিন পরপর রোজা রাখলে এবং নির্দিষ্ট দিনে রোজা রাখলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।

সপ্তাহে কোন কোন দিন রোজা রাখা সুন্নত

সপ্তাহের বিশেষ দুইদিন রোজা রাখা সুন্নত। এই দুইটি দিন হলো সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সপ্তাহের এই দুইদিন নিয়মিত রোজা রাখতেন। তিনি শুধু নিজেই রোজা রাখতেন এমনটা নয় তিনি সাহাবীদেরও এই দুই দিন রোজা রাখতে উৎসাহিত করতেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম যেসব কারণে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন সেগুলোর নিচে দেওয়া হলো।

১। এই দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম প্রথম নবুয়ত লাভ করেছিলেন। তাই এই দিনে আমল করলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়। তাই তিনি এই দিনে রোজা রাখতে উৎসাহিত্য করতেন।

২। এই দুই দিন রোজা রাখা উত্তম কারণ আল্লাহতালা এই দুই দিন সকল মুসলিম ব্যক্তির গুনাহ মাফ করেন। শুধুমাত্র পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তির গুনাহ মাফ করা হয় না।

৩। এছাড়াও হাদিসে বর্ণিত আছে এই দিনে আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আর যদি আমলনামা রোজা রোজা রাখা অবস্থায় পেশ করা হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে তা বেশি পছন্দনীয় হয়। এজন্য তিনি সপ্তাহের এই দুইদিন রোজা রাখার জন্য তাগিত দিতেন।

৪। যেহেতু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সপ্তাহের এই দুইদিন রোজা রাখতেন, তাই আমরা যদি এই দুইদিন নফল রোজাও রাখি তাহলেও সুন্নাতের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। তাই সপ্তাহের এই দুই দিন অর্থাৎ সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখা উত্তম।

নফল রোজার ফজিলত

নফল রোজা মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাখা হয়। নফল রোজা গুলো রমজান মাসের ফরজ রোজার ঘাটতি পূরণ এবং আত্মশুদ্ধির জন্য উত্তম ইবাদত। নফল রোজা রাখলে গুনাহ মাপা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মানুষের ধন সম্পদের যেমন যাকাত আছে, ঠিক তেমনি মানুষের শরীরেরও যাকাত আছে। আর শরীরের সবচেয়ে বড় যাকাত হচ্ছে নফল রোজা। নিচে নফল রোজা ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হলো।

১। নফল রোজা রাখার সবচেয়ে বড় ফজিলত হচ্ছে যে বান্দা নফল ইবাদত করে সে বান্দা আল্লাহর কাছাকাছি চলে যায়। অর্থাৎ আল্লাহ তাকে এবং তার ইবাদত কে পছন্দ করে।

২। যে ব্যক্তি নফল রোজা করে আল্লাহ তার পূর্বের গুনাহ গুলো মাফ করে দেয়।

৩। হাদিসে বর্ণিত আছে, “যে ব্যাক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় একদিন নফল রোজা রাখে, আল্লাহতালা তার মুখমণ্ডল জাহান্নাম থেকে 70 বছরের দূরত্বই সরিয়ে দেবেন।”

৪। নফল রোজা মুমিনের তাকওয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৫। শাওয়াল মাসে ৬ টি নফল রোজা করলে সারা বছর রোজা করার সওয়াব পাওয়া যায়।

মন্তব্য

এই আর্টিকেলটিতে নফল রোজার সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। আশা করি নফল রোজা সম্পর্কে আপনাদের যত ভ্রান্ত ধারণা ছিল সেগুলোর সমাধান হয়েছে। এ আর্টিকেলটির বেশিরভাগ মতামতি বড় বড় আলেম ওলামাদের মতের উপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে। তাই আর্টিকেলে থাকা তথ্যগুলো ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আশা করি আপনি আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। নফল রোজা সম্পর্কে আপনার যদি আরো কিছু জানার থাকে তাহলে আমাদের প্রশ্ন করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url